আমার ব্লগ এ তোমাদের সবাই কে স্বাগত। আজকে কথা বলব অর্পিতা সরকার এর লেখা জীবন কেন্দ্রিক উপন্যাস “জীবন স্রোতের আঁকে বাঁকে “কে নিয়ে।
পুরো উপন্যাস এ পনেরো টা গল্প আছে। আর প্রত্যেক টা গল্পই ভিন্ন স্বাদের। এখানে যেমন প্রতিশোধের গল্প আছে, তেমনি আছে ভালবাসা, মায়া আর আবেগ এবং
অনুশোচনা এর গল্প। আছে একদম তোমার আমার মত নিম্ন মধ্যবিত্ত একটা ছেলের দামী আইটি চাকরি ছেড়ে নিজের স্বপ্নের ক্যাফে তৈরি করার গল্প। তাহলে চলো শুরু করা যাক।
প্রথম গল্পটা
প্রতিশোধ
পাঁচজন বন্ধুকে নিয়ে -যে পাঁচ জন বন্ধুর নাম-প্রদীপ্ত, সপ্তর্ষি, সৃজন, দেবমাল্য ,আর রুদ্রনীল- তারা একই স্কুলের ছাত্র,-প্রথমে খুন হয় শুধু প্রদীপ্ত, তারপর সপ্তর্ষি,
স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ দেবমাল্য সৃজন আর রুদ্রনীল কে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তাদের তিনজনকেই থানাতে ডেকে পাঠান থানার ওসি সৌমিত্র বাবু। থানায় আসার আগেই খুন হয় দেবমাল্য।http://Jiban Shroter Ake Banke | Arpita Sarkar | জীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে | অর্পিতা সরকার – The Libraries https://share.google/rxLBOpIi6kufby4HZ
এরপরে সৃজন আর রুদ্রনীল অফিসার সৌমিত্র বাবুকে বলেন সুনয়ন বলে একটা ছেলের কথা। এই ছেলেটা ওদের সাথে স্কুলে পড়ে।
এরপর সুনয়ন কে গ্রেপ্তার করার পরেও খুন হয় সৃজন আর রুদ্রনিল । বাধ্য হয়ে পুলিশ সুনয়ন ছেড়ে দেয়। পড়ে দেখা যায় খুন গুলো করেছে সুনয়ন এর বিকলাঙ্গ বাবা, আর ওর প্রেমিকা।
সুনয়ন এর প্রেমিকা কে একদম নিজের মেয়ের মতই দেখে সুনয়নের বাবা। আর সুনয়নের প্রেমিকাকেই ধর্ষণ করতে গেছিল ওর সেই খুন হওয়া পাঁচজন বন্ধু এবং
শুধু তাই না সুনয়ন কে ভুল রুটিন দিয়ে পরীক্ষায় ফেল করাতে চেয়েছিল ওর ওই পাঁচজন বন্ধু। তাই তাদের পরিণতি এইরকম হয়েছে।https://thebookscope.com/%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%9f%e0%a6%9f%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9f/
ঘরোয়া–
এই গল্পটা লেখা হয়েছে, দুজন প্রবীণ নাগরিক কে নিয়ে, প্রথমজন উদয় চক্রবর্তী আর উনার স্ত্রী মিনতি। উদয় তার স্ত্রী মিনতিকে একটা ভালো বৃদ্ধাশ্রমে রাখতে চায় যেখানে মিনতি তার বাকি জীবনটা সুন্দরভাবে কাটাতে পারবে।
এবং সেই জন্যই অনেক খুঁজে খুঁজে “মায়ার বাঁধন” নামের একটা বৃদ্ধাশ্রম দেখতে পান উদয় চক্রবর্তী। সেখানে নিজের স্ত্রীকে সাথে নিয়ে গিয়ে আলাপ হয় শ্রাবনীর সাথে,
শ্রাবণী ওই পুরো বৃদ্ধাশ্রম টাই দেখাশোনা করে, উদয়ন বাবুর পুরো কথা শুনে খুব ভালো লেগে যায় শ্রাবণীর।
এবং শ্রাবণী, পুরোপুরি দায়িত্ব নেয় উদয়ন বা স্ত্রীকে নিজের বৃদ্ধাশ্রমে রাখার, এবং তাকে বাকিটা জীবন ভালো ও সুন্দর রাখার।
রাঁধুনী:
অতনুর কপালে বেশি দিন আর সুখ সহ্য হলো না। যদিওমাত্র ক্লাস সেভেন পড়া একটা ছেলেকে হোস্টেলে পাঠানো নিয়ে ওর পরিবারের অনেকের আপত্তি ছিল কারণ
অতনু ছিল ওই পরিবারের একমাত্র ছেলে। তাই দিদি ঠাকুরমার কাকাদের ভালোবাসায় খুব আদরে ভালোবাসায় বড় হয়ে উঠছিল, নিত্য ভালো মন্দ সুন্দর সুন্দর সুস্বাদু খাবার পাচ্ছিল কিন্তু
বাবা বুঝেছিল ছেলে এতটা আদরে মানুষ হলে ভবিষ্যতে সেটা ওর জন্যই খারাপ, তাই অতনুকে হোস্টেলে যেতে হল। হোস্টেলে গিয়ে ও যেন একরকম অথৈ জলে পড়ল।
বাড়ির সুখ ছেড়ে ওকে সব বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে থাকতে হতো খেতে হতো হোস্টেলের সেই স্বাদ হীন খাবার। এরপরে ছুটিতে বাড়িতে এসে ঠাকুমার কাছে যখন গল্প করলো,
তখন ঠাকুমা সুন্দর সুন্দর রান্নার রেসিপি লেখা একটা ডাইরি অতনুকে দিয়ে বলেছিল যেন ও হোস্টেলে গিয়ে ওর সেই রাধুনী মাসিকে দেয়। অতনু দিয়েছিল ঠিকই
কিন্তু রাধুনীর রান্নার কোনো উন্নতি হয়নি।
পাত্রীপক্ষ:
এক কথায় এই গল্পটা আগে তিনটে গল্পের মতই একদম একটা ফ্যামিলি ড্রামা ।বছর ত্রিশের ছেলে পার্থ বর্মন ঠিক করল এবার বিয়ে করবে। সেই মত সে মেয়ে দেখতে গেল প্রীতিলতাকে। যাকে এই গল্পে পাত্রী হিসেবে বলা হয়েছে।
দুজনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বেশ ভালো কথোপকথন হলো, তারা একে অপরকে চিনলো। এরপরে তারা দুজন একটা ছোট ক্যাফেতে ডেটে গেল
এবং ফাইনালি তারা দুজন বিয়েতে তাদের সম্মতির কথা পরিবারকে জানালো।।
সপ্তসুর:
এই গল্প লেখা হয়েছে রক্তিমা সান্যাল নামে একজন উঠতি গায়িকাকে নিয়ে। যার সাফল্যের পিছনে আছে এক অসম্ভব স্বার্থপরতার কাহিনী। যে তার ব্যবসায়ী ধনী হাজবেন্ডের সাথে সল্টলেকের একটা ফ্ল্যাটে থাকে।
সাফল্যের চূড়ায় উঠে থাকা রক্তিমার ফ্ল্যাটে মাঝ রাতে একটা ফোন আসে। রক্তিমা ফোনটা রিসিভ করতেই ওই দিক থেকে নার্সিংহোমের একজন বলে যে ওর হাজবেন্ড শুভ্রর এক্সিডেন্ট হয়েছে এক্ষুনি যেন চলে আসে।
রক্তিম আগে পিছু কিছু না ভেবে গাড়ি নিয়ে সোজা সেই নার্সিংহোমে চলে যায় এবং গিয়ে দেখে যে যাকে ওরা ওর হাজবেন্ড বলে বলছে সে আসলে ওর পূর্ব পরিচিত একজন ব্যক্তি যাকে হারিয়ে রক্তিমা মা আজকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছে। যার নাম দিব্যজ্যোতি।
হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে রক্তিমা যখন শুভ্রকে সব কথা বলে তখন ও বুঝতে পারে যে শুভ্র সবটাই জানে। গল্পের শেষে গিয়ে দেখা যায় আদতে দেবজ্যোতি ছিল শুভ্রর দাদা এবং
দাদার উপর বদলা নিতে শুভ্র রক্তিমাকে নিজের প্রেমে ফাঁসিয়ে এইসব করেছে।
রক্ত গোলাপ:
এই গল্প লেখা হয়েছে সত্য বিবাহিতা দুজন দম্পতি কে নিয়ে। পূবালী আর নিশান দুজনে এযাবর কে ভালোবেসে বিয়ে করেছে পূবালী হাউস ওয়াইফ আর নিশান একটা ফুলের দোকান চালায় কিন্তু,
হঠাৎ করেই পূবালী তাদের বাসায় এক অশরীরী উপস্থিতি অনুভব করতে থাকে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে সেই অশরীর হাত থেকে বাঁচার জন্য তাদের ঘর ছাড়তে হয় এবং
পরে জানা যায় সেই অশরীর আত্মা আর কেউ না নিশান এর পূর্ব পরিচিত একটা মেয়ে যে নিশানকে ভালোবেসে ওর সাথে সংসার করতে চেয়েছিল। যদিও পড়ে নিশান এক তান্ত্রিকের
সাহায্য নিয়ে সেই অশরীর আত্মার হাত থেকে মুক্তি পায়।
ভোরের স্বপ্ন:
মাঝরাতে হঠাৎ করে অদ্ভুত সব দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙ্গে যায় অনির্বাণ এর। যেটা নিয়ে ওর বউ দীপিকা খুব চিন্তিত। এরপর একরকম বাধ্য হয়ে দীপিকা অনির্বাণকে একজন সাইক্রিয়াটিক ডক্টর এর কাছে নিয়ে যায়, এবং
এবং সেখানে গিয়ে কথা বলতে বলতেই শম্ভুচারণ নামে অনির্বাণের ক্লাস নাইনের এক স্কুলের অংকের মাস্টারের কথা জানতে পারে দিপীকা।
দীপিকা জানতে পারে অনির্বাণ স্কুলে অংক পরীক্ষার ফেল করায় অংকের ওই শিক্ষক অনির্বাণকে আলাদা করে সাহায্য করত এবং পরে অনির্বাণ ভালো রেজাল্ট করায় ,
সেই শিক্ষকের নামেই ভুল কিছু কথা চারিদিকে রটায় অনির্বাণ। এরপর সেই শিক্ষক নাকি অপমানিত হয়ে সেই স্কুল ছেড়ে অন্য স্কুলে চলে যায়
অনেক খোঁজখবর নিয়ে দীপিকার তার সেই অংকের মাস্টারের ঠিকানা বের করে যার নাম গল্পের লেখা হয়েছে শম্ভুচারণ। এরপর অনির্বাণকে সেই শিক্ষকের সাথে দেখা করিয়ে সব ভুল বোঝাবুঝির সমাপ্তি ঘটায় অনির্বাণ এর বউ।
সোনাঝুড়িতে বৃষ্টি নামলো:
এই গল্পটা আমার এই ছোট উপন্যাসে সবগুলো গল্পের মধ্যে অন্যতম একটা সেরা গল্প লেগেছে। এই গল্পটার মধ্যে একটা সুন্দর আবেগ আছে।

আদিত্য নারায়ন পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার এক ছেলে অরিত্র আরেক মেয়ের নাম আত্রেয়ী। আর পাঁচটা বাবার মতই আদিত্য নারায়ন তার মৃত্যুর আগে একটা হুইল করে যায়,
সেই হুইলটাতে আদিত্য নারায়ণের শখের শান্তিনিকেতনের বাড়িটা সে সেই বাড়ির কেয়ারটেকার জগন্নাথের নামে লিখে রেখে দিয়ে যায়।। আর এদিকে অরিত্রর স্ত্রী ইচ্ছে ছিল ওই বাড়িটাকে একটা রিসোর্ট বানানোর।
একদিকে স্ত্রীর ইচ্ছে আর অন্যদিকে বাবার করে যাওয়া হুইল যেন অরিত্র কে একটা অদ্ভুত সমস্যার মধ্যে ফেলে দেয়। অরিত্রের অবস্থা একদম স্যান্ডউইচ এর মত হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত শান্তিনিকেতনের বাড়িতে গিয়ে অরিত্র বাবার একটা চিঠি পায়। এখানে বাবা স্পষ্ট লিখে গেছে, ও যেন কোনোভাবেই এই বাড়িটা জগন্নাথের হাত থেকে না নেয়।
বাবার কথা রাখে অরিত্র, এবং সে তার স্ত্রীকে ফোন করে বলে তার শখের রিসোর্টের জন্য সে শান্তিনিকেতনে অন্য একটা জায়গা খুঁজে দেবে। কিন্তু এই বাড়ি জগন্নাথের নামেই থাকবে।
সেদিন মধ্যরাতে:
সাবর্ণ কে নিয়ে ক্লাস এ খুব হাসাহাসি করে ওর বয়সের বন্ধুরা। যার প্রধান কারণ ওর মায়ের superstition . সাবর্ণর মা ওর ছেলের গলায় ,হাতে, মালা, তাবিজ, পড়িয়ে রাখে।
সাবর্ণর মায়ের বিশ্বাস যে ওনার গুরুজীর দেওয়া এই তাবিজ আর মালার জোরেই আজকে সাবর্ণ ক্লাসে এত ভাল রেজাল্ট করে।
এই নিয়ে সাবর্ণ, আর সাবর্ণ এর বাবা দুজনেই খুব বিরক্ত । কিন্তু দুজনে কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না। সুযোগ তখন আসে যখন সাবর্ণর মা জানায় তার গুরুদেব তাদের বাড়িতে আসছে।।
এই সুযোগটাই খুঁজছিল সাবর্ণ আর সাবর্ণ এর বাবা। সুবর্ণর বাবা ভূত সেজে সেই গুরুদেব কে ভয় দেখায়। এবং গুরুদেব ভয় পেয়ে সাবর্ণর গলা আর হাত থেকে সমস্ত তাবিজ সাবর্ণর মাকে খুলে নিতে বলে।
আর এই ভাবেই সাবর্ণ যেন একটা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পায়।
হাইওয়েতে:
দিকদর্শনপুর নামে একটা ছোট্ট গ্রামের ছেলে নিশান হঠাৎই সিদ্ধান্ত নেয় নিজের চাকরি ছেড়ে একটা ক্যাফে খুলবে। যেমন বাবা তেমন কাজ। নিজের বেকার বন্ধুদের জোগাড় করে,
হাইওয়ের একদম ধারে খুলে ফেলে একটা ক্যাফে। যার নাম দেয় সত্যজিৎ রায় এসে বিখ্যাত চলচ্চিত্র “পথের পাঁচালী “নামে। সব ঠিকঠাক চলছিল কিন্তু
ওই ক্যাফেতে এসে হাজির হয় প্রায় নিশানের সমবয়সী একটা মেয়ে যার নাম সুচরিতা। ক্যাফের পরিবেশ সুচরিতার এত ভালো লাগে যে সুচরিতা ওখানেই থেকে যেতে চায়। নিশান প্রথমে কোন আপত্তি করেনি। এবং
পড়ে গিয়ে নিশান আর সুচরিতার বন্ধুত্ব বাড়তে থাকে। কিন্তু চমকটা ছিল অন্য জায়গায়। একদিন নিশানের ক্যাফেতে পুলিশ এসে হাজির হয়।
আর সেই পুলিশের কাছ থেকেই নিশান জানতে পারে যে সুচরিতা আর কেউ না কলকাতার একটা বিখ্যাত আইটি কোম্পানি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এর মেয়ে, এবং
সুচরিতা পুলিশকে এটাও জানায় বাবার চাপিয়ে দেওয়ার ব্যবসা তার ভালো লাগছিল না বলেই সে এই ক্যাফেতে এসে একটু মুক্তির স্বাদ নিচ্ছিল। শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে সে যেন ,
এক টুকরো শান্তি খুঁজে পেয়েছিল এই ক্যাফেতে। যদিও গল্পের শেষে দেখা যায় সুচরিতা আবার নিজের ইচ্ছেতেই নিজের সেই চার দেওয়ালের জীবনে ফিরে যায়।
অভিশপ্ত বাড়ি: 📚
বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী বর্ণালী ব্যানার্জি দেবীপুর এর একটা পোড়ো বাড়িতে শুটিং করতে যায়। ওনার সাথে যায় ওনার ছেলে টিপাই। শুটিংয়ের ফাঁকেই হঠাৎ করে নিজের ছেলেকে হারিয়ে ফেলে অভিনেত্রী,
এরপর অভিনেত্রীকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে একজন লোকাল সাংবাদিক। সেই লোকাল সাংবাদিকের সাথেই নিজের ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে অভিনেত্রী ভুতের সম্মুখীন হয়। তারপর অনেক কষ্টে নিজের ছেলেকে ভূতের কাছ থেকে বাঁচিয়ে,
ফেরত নিয়ে আসে সেই নায়িকা। এবং সেই অভিশপ্ত বাড়ির এক করুণ কাহিনী জানতে পারে সেই নায়িকা।
ছেলেপোতা শ্মশান:
গ্রামের একদম সরল সোজা সাদা সিদে ছেলে মানিকের জীবনের ওটা পরানি এই গল্পটা লেখা হয়েছে। ছোটবেলায় যে ছেলেটা মায়ের মৃত্যুকে চোখের সামনে দেখেছি আর বাবার ভালোবাসা থেকেও বঞ্চিত হয়েছে।
এরপরে পেটের দায় নিজের স্ত্রী বাসন্তীকে বাড়িতে রেখে সে দূরে কাজ করতে গেছে।। তার স্ত্রী একের পর এক সন্তানের জন্ম দিয়েছে আর সেই সন্তান মারা গেছে।
আর মানিক তার সেই মৃত সন্তানকে নিয়ে গিয়ে একটা নিম গাছের তলায় মাটি চাপা দিয়ে এসেছে। এরপর গল্পের শেষে দেখা যায় বাসন্তী নিজের শশুরকেই,
প্রতিদিনএকটু একটু করে খাবারে বিষ মিশিয়ে মেরে দেয় আর এখানেই এই গল্পের শেষ হয়
আধারপুরের যাত্রী
গার্গী আর , নীলাদ্রি এক ছেলে ও এক মেয়ে, যাদের নাম নীলাঞ্জন আর নয়না। ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলতে গিয়ে নীলাঞ্জন এর মাথায় চোট লাগে সেখান থেকে নীলাঞ্জন আস্তে আস্তে দৃষ্টি শক্তি হারাতে থাকে।
এবং একটা সময় পর নীলাঞ্জন পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায় । আর নীলাঞ্জন এর ভরসা হয়ে ওঠে ওর বোন নয়না। নয়নার চোখ দিয়েই নীলাঞ্জন যেন একটা আধারপুরের যাত্রীতে পরিণত হয়। নয়নার চোখ দিয়ে নীলাঞ্জন নতুন করে দেখতে থাকে এই দুনিয়াকে।
সরি স্যার:
বিহারীনাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি শিক্ষক দেবেশ বাবু একটু পুরনো দিনের মানুষ। প্যান্ট শার্টের বদলে উনি ধুতি পায়জামা পড়তেই বেশি ভালোবাসেন।
তাই ছাত্ররাও উনাকে নিয়ে একটু হাসাহাসি করে। ইংরেজিটা ক্লাসে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ায় বলে ছাত্ররা খুব বোর ফিল করে তার ক্লাসে। যদিও গল্পের শেষে দেখা যায় মাধ্যমিকে ওই স্কুলের ছাত্ররাই ইংরেজিতে খুব ভালো ফল করে,
যে শিক্ষককে নিয়ে তারা হাসাহাসি করত পরীক্ষার ফল বেরোতেই তারা সেই শিক্ষককে ঘিরে ধরে সংবর্ধনা জানায়

