জাপানিজ লেখক মিজুকি সুজিমুরা এর লেখা রহস্য উপন্যাস-Mystery novel written by famous Japanese author Mizuki Tsujimura

জাপানিজ লেখক মিজুকি সুজিমুরা এর লেখা রহস্য উপন্যাস-Mystery novel written by famous Japanese author Mizuki Tsujimura

সদ্য শেষ করলাম জাপানিজ বই  “Lost souls Meet under a fool moon”।

যেটা লিখেছেন জাপান এর একজন বিখ্যাত লেখক মিজুকি সুজিমুরা। বইটার রিভিউ শুরু করার আগে তোমাদের বলি

তোমরা কি তন্ত্রসাধনায় বা ইহলোক পরলোকের মত বিষয়কে বিশ্বাস কর?বিশ্বাস করো যারা আমাদের চেয়ে পরলোকে গমন করে যে তাদেরকে ফিরিয়ে আনা যায়, এবং

ফিরিয়ে নে তাদের সাথে কথা বলা যায়, সমস্যার সমাধান করা যায় যদি করে থাকো বা এই ধরনের বই পড়তে তোমার ভালো লাগে,

তাহলে এই বই তোমার জন্য।তবে এই বইয়ের রিভিউ শুরু করার আগে তোমাদের আরও একটা কথা বলতে চাই।

এই বইটা পড়ার আগে তোমরা মিজুকি সুজিমুরা এর লেখা “লোনলি ক্যাসেল ইন দ্য মিরর”বইটা পড়ো তাহলে এই বই বুঝতে তোমাদের আরেকটু বেশি সুবিধা হবে|

তবে সত্যি কথা বলতে আমিও “লোনলি ক্যাসেল ইন দ্য মিরর”বইটা পড়িনি। এটাই জাপানিজ লেখিকা মিজুকি সুজিমুরা এর লেখা আমার পড়া প্রথম বই।

এই বইয়ের  গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র?

“গো বিটুইন ” বলতে কি বোঝো। জাপানিজ সাহিত্যের এই বইতে মুলত এটাকে একটা profession অর্থাৎ পেশা হিসেবে দেখানো হয়েছে। যার কাজ হলো মৃত ব্যাক্তি দের সাথে জীবিত ব্যক্তি দের সাক্ষাত করিয়ে দেওয়া। অর্থাৎ

“গো বিটুইন”ইহলোকের সাথে পরলোকের একজন মধ্যস্থতা কারী হিসেবে কাজ করে।বই পড়লে জানবে টোকিওর একজন তরুনী আয়ুমি শিবুয়া নামের এক মধ্যস্থতাকারী বা “go Between”এর সাথে দেখা করে। কারন

মেয়েটার উদ্দেশ্য ছিল সে মৃত একজন tv তারকার সাথে দেখা করতে চায় যে তাকে এক সময় সাহায্য করেছিল।

This image is the book cover for the novel "Lost Souls Meet Under a Full Moon" by the Naoki Prize-winning author Mizuki Tsujimura. The design is whimsical and atmospheric, leaning into a modern "indie" aesthetic with a vibrant, high-contrast color palette. জাপান
Lost souls Meet under a full moon (image source:google images)

যদিও সেই মধ্যস্থতাকারী যে একটা ডাফেল কোট , হাতে একটা ছেঁড়া নোটবুক ধরা একটা ছেলে হবে সেটা কোনো ভাবেই সে মেয়েটা আসা করেনি।

https://thebookscope.com/the-founding-father-of-fraud-book-review-bhaswar-mukherjee/

ছেলেটার নাম আয়ুমী শিবুয়া তার ক্লায়েন্টদের দারুন পরিষেবা দিয়ে থাকে, বিলাসবুহুল হোটেলে সে ক্লায়েন্টদের সাথে দেখা করে, এবং

মৃত ব্যক্তির সাথে ওই জীবিত ব্যক্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার আগে সেই কিছু নিয়ম-কানুন তৈরি করে যেমন

প্রতিটা পুনর্মিলন একটা এককালীন ব্যবস্থা অর্থাৎ এটা কোনোভাবেই দুবার করে সংঘটিত হবে না এবং সেই মৃত ব্যক্তি এই পুনর্মিলন প্রত্যাখ্যান করতে পারে, এবং

এই পুনর্মিলন অনুষ্ঠিত হবে অবশ্যই পূর্ণিমার সময় । এরপরে গল্পে হয়তো এগোতে থাকে আমরা তত আরো নতুন নতুন চরিত্রের সাথে পরিচিত হতে থাকি যারা আয়ুমী শিবুয়া এর কাছে এসে তাঁদের প্রিয় মৃত ব্যাক্তি দের সাথে কথা বলার আগ্রহ দেখায়।

https://www.tarvolon.com/2025/10/19/fantasy-novel-review-lost-souls-meet-under-a-full-moon-by-mizuki-tsujimura/

এই বই এর মূল বিষয়বস্তু?

এই বই পাঁচটি অংশে বিভক্ত একটা ছোটো উপন্যাস। চারটি অধ্যায়এর চল্লিশ টা পাতা জুড়ে চারটি বিভিন্ন পুরুষের এর গল্প।

গল্প গুলোতে তে আমরা দেখতে পারি যে আয়ুমী শিবুয়া যখন তার এই পুনর্মিলন এর যাত্রা শুরু করেন সে বিভিন্ন ধরনের ক্লায়েন্ট দের সাথে মিলিত হয়,  যেখানে একজন  বিরক্ত জ্যৈষ্ঠপুত্র তার মৃত মাকে তার জমি একটা ফ্ল্যাটের কাজ খুঁজে দিতে বলে, এবং

অন্য একটা গল্পে এক কিশোরী তার প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর জন্য নিজেকেই দোষারোপ করতে শুরু করে, আরেকটা গল্পে একজন ক্লান্ত ব্যবসায়ী তার বাগদত্তার প্রেমিকের বিয়ের কয়েক দিন পরেই নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার উত্তর খুঁজছে।

এরা তাদের হারিয়ে যাওয়া কারোর সাথে শেষ কথোপকথনের সুযোগ খুঁজছে, সেটা একজন পিতামাতা, একজন প্রেমিক, কিংবা একজন বন্ধুই

এই বই এর পঞ্চম গল্পটা সব থেকে বড়, যেখানে তরুণ মধ্যস্থতাকারী যে সভাগুলো পরিচালনা করত তার দৃষ্টিকোণ থেকে বাকি এই চারটি গল্পকে দেখানো হয়েছে,

“লোনলি ক্যাসেল ইন দ্য মিরর”বইতে যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য অন্বেষণের জন্য একটা সুন্দর ফ্যান্টাসি প্রেক্ষাপট ব্যবহার করা হয়েছে, তাই “lost souls meet under the fool moon” বইতে চরিত্র গুলোকে কূপে ফিরে যেতে দেখে আমি খুব একটা অবাক হইনি।

গল্পে দেখা গেছে যে চার জন পুরুষের কথা বলা হয়েছে তারা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে সেটা পরিবারিক প্রত্যাশা থেকে বা কোন অপরাধবোধ বা আত্ম সম্মান বোধের অভাব ।

Japanese author Mizuki Tsujimura holding her book 'Lost Souls Meet Under a Full Moon' in a brightly lit bookstore. The book cover features a vibrant pink moon and yellow typography. Ideal for fans of contemporary Japanese literature and Naoki Prize winners. জাপান
Mizuki Tsujimura hold his book (image source:gemini ai)

চরিত্র গুলোর মধ্যে কেউ কেউ এই সব কিছু সম্পর্কে সচেতন আবার কেউ কেউ সচেতন নয় কিন্তু

পরিস্থিতি সাথে মোকাবিলা করতে সবাই ব্যর্থ। তাই তারা মৃত ব্যক্তি দের কাছে এসে সান্ত্বনা খুঁজছেন।

গল্প গুলো যত এগোই তত আমরা দেখতে পাই বর্ণনাকারীর কখনই তাদের মনের মতো কিছু পাননা। 

পঞ্চম অধ্যায়ে আমরা দেখতে পাব  যে মৃত দের সাথে মিলিয়ে দেওয়ার কাজ যে মধ্যস্থতাকারী করে, সেই আয়ুমী শিবুয়া মধ্যস্থতাকারী একদম নতুন এবং

তার নিজস্ব কিছু প্রশ্ন সে সেখানে তুলে ধরে, এই পুরো সিস্টেমটা কিভাবে কাজ করে এবং তার অতীতের একটা ঘটনা যেখানে আমরা জানতে পারি তার মা-বাবা দুজনেই মৃত এবং

তাকে তার ঠাকুমার কাছে রেখে গেছে তাকে মানুষ করার জন্য।

মৃতদের সাথে সাক্ষাতের আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক তাৎপর্য বিবেচনা করার সময় নেওয়া গল্পে এই ঘটনা একটা স্তর যুক্ত করে এবং

মধ্যস্থতাকারী আয়ুমী শিবুয়া গল্পের প্রথম চারটে চরিত্র গুলোর মধ্যে এমন কিছু দেখতে সক্ষম হয় যা তারা নিজেরা নিজস্ব দৃষ্টিকোণ দিয়ে অধ্যায়গুলোতে সবসময় দেখতে পায় না।

তবে সামগ্রিকভাবে এই গল্পের লক্ষ্য লেখকের আগের বই এর মতই ,মানুষের মনের ভেতরের বিভিন্ন মনুষ্যাত্বিক অসুস্থতা বের করার জন্য ফ্যান্টাসির সাহায্য নেওয়া।

তবে শেষমেষ একটাই কথা বলব গল্পটা আশ্চর্যজনক না হলেও পড়ার জন্য খুব ভালো।

এই বই এর নাম কতটা তাৎপর্য পূর্ণ?

সত্যি কথা বলতে গেলে বই এর নাম আর বই এর কাহিনী একদম মিলে গেছে। “Lost souls meet under the moon”এই গল্পের বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় “হারিয়ে যাওয়া আত্মারা চাঁদের নিচে দেখা করে”

গল্পে দেখতে পেয়েছি আয়ূমি শিবুয়া কী ভাবে পূর্ণিমার চাদের আলোতে হারিয়ে যাওয়া মৃত ব্যাক্তিদের তাদের প্রিয় মানুষ দের দেখা করিয়ে দেয়।

সুতরাং লেখিকা যে এই বই এর নাম এর সাথে তার গল্পের সাথে একশো শতাংশ মিল খাইয়ে রেখেছেন সেটা বোঝা যাচ্ছে।

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *