পাখি ও তাদের প্রকৃতি নিয়ে লেখা একটা দারুন বই-A great book about birds and their nature

পাখি ও তাদের প্রকৃতি নিয়ে লেখা একটা দারুন বই-A great book about birds and their nature

পাখি নাম টা বললেই আমাদের মাথায় আসে সুন্দর কিচির মিচির ডাক। তাই আজকে এমন একটা মানুষ কে নিয়ে কথা

বলব যার জীবনের অনেকটাই কেটেছে পাখি দের নিয়ে। ডঃ আশাদ রহমানি যিনি জীবনের অর্ধেক টা সময় কাটিয়েছেন পাখি দের সাথে ।

Dr আসাদ রহমানি এর জীবন?

এই বইতে তিনি তার পাখি দের সাথে কাটানো মনোমুগ্ধকর স্মৃতিকথা তিনি তুলে ধরেছেন।

“লিভিং উইথ বার্ডস”বইতে তুমি পাখি, পাখিদের চারিপাশে প্রাকৃতিক দৃশ্য, এবং

তাদের সংরক্ষণের প্রতি ভালোবাসায় ডুবে থাকা একটা মানুষের জীবন সম্পর্কে জানতে পারবে কিন্তু

 Dr, ashad rahaman and selim ali the legendary two bird(পাখি )resercher in india closely examining a small object held in his hands on a forest , surrounded by four attentive young Indian members leaning in curiously, 1970s vintage color photograph.

এই বই কে শুধুমাত্র একটা পাখি দের স্মৃতিকথা বললে ভুল বলা হবে, এটি পাখির সৌন্দর্য পাখি সংরক্ষণের দৃঢ়তা এবং

ভারতের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি। লেখক এই গল্পটার দ্বারা তার উষ্ণতা আর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে আমাদের চারপাশে জীবনের ভঙ্গুর জাল কে,

সংরক্ষণ করার বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশগত ধারণা দিয়েছেন।

ডঃ রহমানীর কর্মজীবন এর যাত্রা?

১৯৮০ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত ভারতের সংরক্ষণ আন্দোলন ও তার বিবর্তনের সাথে ডক্টর রহমানী নিজেকে ওতপ্রুতভাবে জড়িয়ে রেখেছিলেন এবং

https://thebookscope.com/%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a0%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%9f%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%85/

১৯৮০ সালে বোম্বের ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির একজন সিনিয়র বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ শুরু করে এবং

১৯৯৭ সালে গিয়ে তিনি পরিচালক পদে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার কর্মজীবন গভীর অধ্যাবসায় ও প্রকৃতির প্রতি তার যে অসীম ভালোবাসা তার প্রমাণ রাখে।

"Prime Minister Indira Gandhi handing over Maharashtra government land grant letter to Dr. Salim Ali, President of Bombay Natural History Society (BNHS), for proposed Field Research Centre during historic ceremony" পাখি
মুম্বাই তে BNHS এর ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইন্দিরা গান্ধী

তিনি  সেলিমআলী, হুমায়ুন আব্দুল্লাহ সিনিয়র সংরক্ষণ কিংবদন্তি দের মত পাশাপশি, রবিসংকরণ, বিভুপ্রকাশ সহ অন্যান্য তরুণ জীব বিজ্ঞানীদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করেছেন।

http://Top 10 books about birds | Science and nature books | The Guardian https://share.google/nFFNJaneEQSUbEKuL

লিভিং উইথ বার্ডস বইতে কী আছে?

এই বই মূলত লেখক রহমানি কি ভাবে বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতার সাথে উদ্দীপক গল্প বলার অসাধারণ ক্ষমতা আমাদের সামনে তুলে ধরে এবং

এই বইতে তিনি তার জীবনের প্রাণবন্ত অভিযানের বর্ণনা দিয়েছেন, যেটা আমাদের সামনে বন্য জীবনের উত্থান পতন তুলে ধরে।

প্রখর রোদের তাপের নিচে কাজ করা থেকে শুরু করে, সেই ক্লান্তিকর দিন তারপর আবার আমলাদের সাথে লড়াই এবং

এর পাশাপাশি সীমিত সম্পদের মধ্যে দিয়ে কিভাবে সংরক্ষণ করা যায় সেই ছবি আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন কিন্তু

এত কষ্টের মধ্যেও সব থেকে আনন্দ কর জিনিসগুলো ছিল অধরা অজানা পাখি দের প্রজাতি দেখা, পাখিদের প্রাকৃতিক আওয়াজ তাহলে পাখিদের দেখতে পাওয়া, ও

বনের নির্মল সৌন্দর্য উপভোগ করা।

ভারতের বন সংরক্ষণের আইন, আখ্যানগুলো বাঘের মতো সব আইকনিক প্রাণীর জন্য হলেও রহমানি তৃণভূমি এবং

জলাভূমি উপেক্ষিত আবাসস্থল গুলোর উপর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যেমন ১৯৮৪ সালে হায়দ্রাবাদ থেকে আড়াইশো কিলোমিটার দক্ষিণে ,

এক তৃণভূমিতে বিরল প্রজাতির ৩৭ টি বাস্টার্ড এর সাথে তার পরিচয় হয় এবং

এরপরই বিরল প্রজাতির  পাখি রক্ষা করার জন্য তিনি বিশেষ জোর দেন। কিন্তু বাস্তুতন্ত্রের ভঙ্গরতার জন্য বর্তমান সময়ে এই পাখিগুলোর কোনোটাকেই এই অঞ্চলে আর দেখা যায় না।

এই বইয়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়?

এই বই এর অন্যতম গুরুত্ব পূর্ণ অধ্যায় এ রহমানি তার আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথা বর্ণনা করেছে,

যেমন সৌদি আরবের জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কমিশন কে পরামর্শ দেওয়া , এবং

এখানেই তিনি নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে arabian busterd এর মত দুর্লভ প্রাণী কে শনাক্ত করেছিলেন এবং

বিদেশে থেকে ভালো সুযোগ তার কাছে আসলেও সেই সুযোগ ত্যাগ করে রহমানি BNHS এর প্রতি অবিচল

প্রতিশ্রুতি বদ্ধ থেকে গেছেন।

তাঁর কাজের বিস্তৃতি?

পাখি প্রেমী রাহমানির কাজের পরিসর তার কর্মের বাইরে বিস্তৃত ছিল। তার নেতৃত্বের কথা জার্নাল অফ দা বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটিতে হর্নবিল বিল ম্যাগাজিন এর নির্বাহী

সম্পাদক হিসেবে তার তীক্ষ্ণ লেখালেখি এবং বার্ড লাইফ ইন্টারন্যাশনাল এর মত বিশ্বব্যাপী সংস্থার সাথে তার সহযোগিতার কথা পাখি দের সংরক্ষণের ওপর তার

সুদূরপ্রসারী মনোভাব তুলে ধরে। দেড়শরও বেশি বৈজ্ঞানিক সংশয় পত্র এবং অসংখ্য জনপ্রিয় নিবন্ধের মাধ্যম  রহমানী ভারতীয় পাখি বিদ্যার জনক এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

এই বই নিয়ে আমার কিছু কথা?

এই বই পাখি দের সংরক্ষণের উপর একটা গীতা বলা চলে। এটি ভারতের সীমানা জুড়ে একটা যাত্রা। রহমানের অভিজ্ঞতা

মূলত আমাদের চারপাশের প্রকৃতি মানুষ ও তাদের জীবনযাত্রার একটা দিক তুলে ধরে। এই বইকে শুধুমাত্র বন্যপ্রাণী সম্পর্কে লেখা একটা বই পড়লে ভুল বলা হবে বরং

আত্ম আবিষ্কার সম্পর্কেও এই বইতে অনেক কিছু লেখা আছে। এই বই শেখাবে কিভাবে আবেগকে উদ্দেশ্যে পরিণত করতে হয় এবং

নৈতিক নাস্তিকতার সাথে পরিবেশগত রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি প্রতিশ্রুতি ধরে রাখতে হয়।

সাড়ে তিনশরও বেশি পৃষ্ঠা জুড়ে পাখি দের উপর লেখা এই বইটি হাস্যরস ও মর্মস্পর্শী প্রতিফলনে পরিপূর্ণ । তাই তুমি যদি ভারতের বন্যপ্রাণী বনভূমি এবং

বিশেষ করে পাখি দের উপর ধারণা করতে চাও বা তোমার জ্ঞান ভান্ডার বাড়াতে চাও তাহলে এই বই তোমার পড়া উচিত।

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *