Situationship বা পরিস্থিতি এমন একটা জিনিস যা অনেক সময় মানুষকে অনেক কিছু করতেই বাধ্য করে, সেটা অপর দিকের মানুষের ইচ্ছে না থাকলেও এবং
এই situationship এই বইতে দুটো মানুষকে এক জায়গাতে নিয়ে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে
দুটো মানুষ এই গল্পে রোমান্টিক ভাবে এবং যৌনভাবে জড়িত হলেও তাদের সম্পর্কের মধ্যে কোনরকম প্রতিশ্রুতি, অধিকারবোধ বা একচেটিয়তা নেই।
এই বইয়ের রিভিউ শুরু করার আগে আমি আর একটা কথা বলতে চাই যেটা হল” মনে রাখবে সম্পর্কে সব সময় ভালোবাসাটাই সবকিছু হয় না। সেখানে প্রয়োজন হয় সততা ধৈর্য সহানুভূতি সীমারেখা ও ধারাবাহিকতা”

এই বই গল্প এর মূল বিষয়বস্তু কি?
প্রথমে বলে রাখি দীপক খুরানা পুরো গল্পতে যে নারী ও পুরুষ চরিত্র কে তুলে ধরেছেন তারা একে অপরকে তুমি বলে সম্বোধন করছে কিন্তু
লেখক এখানে তাদের কোন নামকরণ করেনি। আমরা দেখি এই বই এর এই পুরুষ আর নারী চরিত্র দুটো একই কলেজে পড়ত,https://thebookscope.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%af%e0%a7%8c%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%89%e0%a6%aa/
এবং দুজনেরই বন্ধুদের একটা বিরাট গ্রুপ ছিল। কিন্তু দুজন দুজনের সাথে কখন কথা বলেনি, উপর উপর থেকে শুধু মুখ চেনা ছিল,তাদের মধ্যে সেই ভাবে আলাপ পরিচয় ও গড়ে ওঠে নি, অর্থাৎ
আমরা বলতে পারি এই বই এর পুরুষ আর নারী চরিত্র দুটো একে অপরের অপরিচিত বন্ধু,
এই রকম দুজনের একটি ডেটিং অ্যাপ এর মাধ্যমে এক যুগ পর দেখা হয়, আমরা জানতে পারি মেয়েটার কলেজ জীবনে
একটা স্থিতিশীল সম্পর্ক ছিল। কিন্তু কলেজের পর সেই সম্পর্ক ও ভেঙে যায়, যেটা আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতোই তার কাছে খুব হৃদয় বিদারক ও যন্ত্রণাদায়ক ছিল,
বইতে আমরা প্রথম যে পুরুষ চরিত্রটা সম্পর্কে জানতে পারি সে পেশাগত পছন্দের আরামদায়ক জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে, এবং
এই পুরুষ মানুষ সম্পূর্ণ নিখুঁত না হলেও নারীদের মন জয় করার সমস্ত গুণ তার মধ্যে আছে, সে সহানুভূতিশীল নম্র লাজুক, আর সীমানার মধ্যে থেকে মানুষের সাথে মিশতে পারে এবং
এই গল্পে আমরা এই পুরুষ চরিত্রটা দুজন সেরা বন্ধুর কথা জানতে পারি যার সাথে সে আড্ডা দেওয়া থেকে শুরু করে এই বইতে তার সামনের দিকে যাত্রার একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
তবে এই বইয়ের নারী চরিত্রকে লেখক একরকম রহস্যময় চরিত্র হিসেবে তৈরি করেছে যে অতীতের বোঝা নিয়ে এই বইটিতে উপস্থিত হয়েছে।
মেয়েটা এখন তার গল্প বলার দক্ষতার মাধ্যমে একটা youtube চ্যানেল চালায়। মেয়েটা খুব আধুনিক, সে তার চ্যানেল এ মন প্রাণ ঢেলে দিয়েছে, এবং
এটাই তার ব্রেকআপ এর পর ভাঙা হৃদয় ও বাস্তবতা থেকে মুক্তির উপায়। এই মেয়েটারও একজন বিশেষ বন্ধু আছে যার সাথে সে ইমোশনালি কানেক্ট হতে পারে এবং নিজেকে মেলে ধরতে পারে।https://www.docdivatraveller.com/2025/06/book-review-circle-with-no-centre-by.html
ডেটিং অ্যাপে দেখা মাত্রই পুরুষে নারী চরিত্র দু জন একে অপর এর সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয়,এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে একটা ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয় কিন্তু
সম্পর্ক এর ব্যাপারে তারা দুজনে খুব আস্তে আস্তে পা ফেলতে থাকে, এই ব্যাপারে তারা দুজনেই খুব সাবধান। পরস্পর পরস্পরকে ভালবাসলেও নিজেদের মধ্যে থাকা দ্বিধা ঝেড়ে ফেলতে তারা খুব সতর্ক।
এই বইয়ের সব থেকে ভালো দিক?
যতো এই বই এর গল্পের ভিতরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করি তত মনে হতে থাকে চরিত্র গুলো যেনো একই বৃত্তের মধ্যে ঘুড়তে থাকবে, কিন্তু
গল্পে আমরা দেখতে পারি অপ্রত্যাশিত ভাবে তাঁদের রাস্তা এক হয়ে যায়, তারা একটা নতুন জগৎ আবিষ্কার করে যা দুজনের কেই আশা করেনি।
এরই মধ্যে দুজনের ভিতরে থাকা ভয় গুলো নরম হয়ে আছে এবং সুপ্ত বাসনা গুলো আস্তে আস্তে জেগে ওঠে। কিন্তু
তাদের এই প্রকৃত ঘনিষ্ঠতা তাদেরকে আত্মরক্ষার এবং বিশ্বাস করার সমস্ত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। তাই অতীতের ভুল আর ব্যক্তিগত কক্ষপথে ঘুরতে থাকা মানুষ দুটো
নিজেদের ভেতরের সত্তা না হারিয়ে কি একসাথে মিলেমিশে ঘুরতে শিখতে পারবে, কারণ
আজকের পৃথিবীতে যেখানে ভালোবাসাকে উল্লফন বলে মনে হয় সেখানে এই দুজন নতুন দম্পতির ভবিষ্যৎ কি হবে।
যেখানে একজন ভালোবাসার দ্বারা চালিত হয়ে বর্তমান মুহূর্তেই বাঁচতে পছন্দ করে আর অন্যজন ভীষণ খুঁতখুঁতে গোছানো আর খুব স্বাধীনচেতা,
সে সম্পর্কে থেকে যাওয়া আর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে নিজের শর্তে জীবনকে অন্বেষণ করার মধ্যে দোটানায় ভোগে।
এই বই নিয়ে আমার মতামত?
এককথায় বলতে গেলে এটা সৎ আবেগ ভরা একটা উপন্যাস, যেটা আমাদের সামনে ভালোবাসার জটিলতা এবং
নিজেকে খুঁজে পাওয়ার জটিলতা তুলে ধরে। এই বইয়ের কাহিনী খুব ধীরগতির হলেও তীব্র এবং সুন্দর স্তরবিন্যাস বই শেষ করার পরেও
তোমার মনে থেকে যাবে। এই বই শুধু ভালোবাসা নিয়ে নয় এটা একটা আবেগঘন অভিজ্ঞতা । এই বই situationship, mental maturity, এবং বিশ্বাস করার সাহস নিয়ে।
এই বই তাদের জন্য যারা জীবনে কখনো গভীরভাবে কাউকে ভালবেসেছে, নিজেদের উপর সন্দেহ করেছে, খুব তাড়াতাড়ি কাউকে ছেড়ে দিয়েছে, এবং
situationship এর শিকার হয়েছে, বা কাউকে অনেকদিন ধরে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। তাই এই বই অপূর্ণতার মাঝে সৌন্দর্য , দূরে সরে যাওয়ার যন্ত্রনা কিংবা ফিরে আসার নীরব শক্তি নিয়ে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
এই বইয়ের নাম কতটা যুক্তিযুক্ত?
দেখো তোমাদের আমি আগেই বলেছি তোমার মনে হবে এই বইয়ের চরিত্র দুটো যেন সেই চেনা পরিচিত বৃত্তের মধ্যেই ঘুরতে থাকবে কিন্তু
শেষমেষ তারা এমন একটা পরিস্থিতি যাকে ইংরেজিতে situationship বলি তার মধ্যে এসে পড়বে যেটা তারা আগে দুজনের কেউই আশা করেনি।
অর্থাৎ একটা বৃত্ত বানাতে যে সেন্টার দরকার হয় সেটা এই বইতে দেখা যায়না, দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠলেও দুটো মানুষই যেন একদম ভিন্ন ধরনের,
তাই গল্পের নামের সাথে গল্পের কাহিনী যে একেবারে মিলে গেছে সেটা বলা যায়।
প্রথমেই তোমাদের বলেছি এই বইয়ের গল্পটা বড্ড ধীর উচিত তাই ধীর গতির গল্প করতে তোমার যদি ভালো না লাগে তাহলে এই বইয়ের গল্প তোমার কাছে একটু বোরিং লাগবে।,
এর পিছনে প্রধান কারণ ছিল নারী চরিত্র এর অতিরিক্ত কিনতে হবে না, যেটাই গল্পকে আরো lengthy করে তুলেছে।
আর একটা বড় কারণ যেটা হলো এখানে যে পুরুষ নারী চরিত্রটাকে কেন্দ্র করে গল্প রেখা আছে তাদের কোন নামকরণ লেখক এখানে করেনি বরং
একটা সুন্দর নামকরণ করলে গল্পটা আরো একটু ইন্টারেস্টিং লাগতো।।
এই বই নিয়ে শেষ কয়েকটা কথা?
Situationship সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা আমার এই গল্প থেকে হয়েছে। আরো যদি বলতে হয় আমি বলব এটি একটি মর্মস্পর্শী ও নিস্তব্ধ শক্তিশালী গল্প যেটা,
আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় যে ভালোবাসা যখন আবেগীয় বোঝা হয়ে ওঠে , স্বাধীনতা এবং নিজের শর্তে বেড়ে ওঠারবাস্তবতার মুখোমুখি হয়, তখন কি ঘটে?
