আমার ব্লগে তোমাদের আর একবার স্বাগত। আজকে namrata Agarwal এর লেখা একটা বই নিয়ে কথা বলবো।
দেখো এই বইটা যখন প্রথমে দেখেছিলাম ভেবেছিলাম এটা প্রেমের বই। কিন্তু তা না, এটাকে সেল্ফ হেল্প বই বলতে পারো।
এই বই থেকে তুমি কি জানতেও শিখতে পারবে?
তবে এই বই পড়লে যে তোমার জীবন রাতারাতি বদলে যাবে তা কিন্তুনা,
বরং এই বই তোমাকে শান্ত, সৎ, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় ধরে তোমার সাথে থাকবে।https://thebookscope.com/the-founding-father-of-fraud-book-review-bhaswar-mukherjee/
এই বই পড়লে তোমার মনে হবে এই বই কখন ব্যাক্তিগত, কখনও কথোপকথন মুলক। তুমি বুঝতে পারবে লেখিকা
কেবল তথ্য ও গবেষণার ভিত্তিতে না বরং নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এই বই লিখেছেন এবং
এই বইয়ের মূলে রয়েছে একটি প্রবন্ধ ও প্রতিফলনের একটি সংগ্রহ। এই বই এর কোনো রৈখিক কাঠামো নেই, বিশাল আখ্যান নেই, এবং
এই বই পড়ে যে তুমি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করবে সেই রকম কথাও কোথাও লেখা নেই,
এর এক একটা অধ্যায় তুমি যখন পড়ে শেষ করবে তোমার অনেকটা বিরতির মতো মনে হবে। এমন ছোট ছোট জিনিস এই বইতে তুলে ধরা হয়েছে যেগুলো ইতিমধ্যেই,
প্রায় আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই আছ, যেমন আত্ম সন্দেহ ভয় স্থিতিস্থাপকতা ও জীবনে আরও বেশি কিছু করার জন্য ক্রমাগত একটা মানসিক চাপ।

এই বইয়ের সবচেয়ে সুন্দর যে দিকটা হলো এই বই জীবনে সফল হওয়ার জন্য চিৎকার করে কোন কথা বলে না বা ,
তোমার মনোযোগের জন্য চিৎকার করে না। এই বই কেবল কথা বলে তোমার আমার সাথে।
আগরওয়াল এর সুর স্থির ও বাস্তব প্রকৃতির। লেখিকা এমন একজন মানুষ আর জন্য বইটা লিখেছেন যে মানুষটা জীবনে কঠিন ভাবে কিছু বুজতে পেরেছেন এবং
Source: Goodreads https://share.google/2Crp1jXqCvn6bcOwt
এখন তিনি তাঁর সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চান আর বলতে চান কি ভাবে তিনি সেই পরিস্থিতি পেরিয়ে এসেছেন|
এখানে লেখিকা কথা বলেছেন তার জীবনের ইনসিকিউরিটি ব্যর্থতা, তারপর নিজেকে প্রশ্ন করার মধ্যে দিয়ে আবার শুরু করা,
লেখিকার এই সততাই এই বইটিকে আরো সুন্দর করে তোলা। এই বই কোন মোটিভেশনাল ফ্লাপ না, এটি একটি স্পন্দন এর সাথে প্রতিফলন। এবং
এতকিছুর পরে বলবে ও এই বই কিন্তু সবার জন্য না। তুমি যদি ষ্পষ্ট কিছু খুজছো যেমন
কোনো ষ্পষ্ট কোনো ধাপ, কোন সমাধান, জীবন সম্পর্কে কোনো সাজেশন তা তুমি পাবে না এই বই তে। এই বই মূলত ধ্যান মুলক।

এই বই কখন কখন আপনাকে অপ্রত্যাশিত ভাবে থমকে যেতে বাধ্য করবে। ব্যাক্তিগত ভাবে বইটা আমার পছন্দের হলেও,
তবে তুমি যদি লক্ষ ভিত্তিক বই পরতে পছন্দ কর যেমন “atomic habits” তাহলেও এই বই তোমার খারাপ লাগবে না এবং
এই বই নিয়ে আরেক টা বিষয় হলো এটি সরল সাহিত্যিক ধরনের না। লেখিকা শব্দ ভান্ডার দিয়ে মুগ্ধ করার চেষ্টাও করেন নি।
পড়ার সময় বুজতে পারবে যে এর বাক্য গুলো সরল, ছোটো এবং খুব কাঁচা। তোমার মনে হবে তুমি কারোর ব্যাক্তিগত ডায়রি পড়ছো।
এই বই এর যে অংশ আমার সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে তা হলো বই টা যতো পড়বে বুজতে পারবে যে
তোমার কোনো সংশোধনের দরকার নেই, তুমি আর পাঁচটা মানুষ এর থেকে পিছিয়ে নেই। এই পৃথিবী কখন তোমার গতি নির্ধারণ করতে পারে না।
আগরওয়াল পাঠক কে বলেন যে নিরাময় সব সময় রৈখিক হবে না, আর ব্যর্থতা কখন হারিয়ে যাওয়া নয়।
লেখিকার কথায় এই মানসিক শক্তি সবসময় নীরবেই থাকে। এই বইতে খুব সূক্ষ্মভাবে একটা আধ্যাত্মিক ভিত্তির সূত্র আছে।
এটা ধর্মীয় বা দার্শনিক নয় বরং এটা আরো গভীর কিছুতে বিশ্বাস করার স্বারক।
তোমার ভিতরের প্রজ্ঞা, তোমার অন্তর দৃষ্টি, তুমি যে ভিতর থেকে ভালো আছো সেটা জেনেও তোমার চুপ থাকার নিরবতা এবং
তুমি এটাও জনো যখন যে তোমার এই নিরবতা ভালো লাগে না। লেখিকা কোন বিশ্বাসের উপর জোর না দিয়ে বরং সেই জায়গাটাকে খোলায় রেখে দিয়েছেন যেটা,
যেটাই বইটাকে আমার কাছে আরো প্রিয় করে তুলেছে। এই বইটার আর একটা ভালো দিক হলো তুমি এই বইটাকে,
যেকোনো চ্যাপ্টার থেকে পড়তে পারো। এমন নয় যে একেবারে বইটাকে প্রথম চ্যাপ্টার থেকে পড়তে হবে।
এমন নয় যে তোমাকে আগের পৃষ্ঠাগুলো মনে রাখতে হবে। তাই এটি তোমার পড়ার টেবিলে তোমার একটা দুর্দান্ত সঙ্গী হতে পারে,
তাই তুমি যখনই অবিচ্ছিন্ন বা অনিশ্চিত কিছু বোধ করবে তুমি তখনই এই বইয়ের যেকোনো অধ্যায় ফিরে যেতে পারো।
এটা কোন যুগান্তকারী হওয়ার ভান করে না, এই বইয়ের রহস্য হলো তুমি যা করো সেটা হল সান্তনা ও প্রতিফলন এবং
চারিদিক যখন তোমার খুব কোলাহলপূর্ণ থাকে তখন তোমার যে সাহসের প্রয়োজন হয় এই বই তোমাকে সেটা দান করে।
নিজেকে ঠিক করার জন্য তুমি এই বই পড়বে না বরং পড়বে এটা জানার জন্য যে তুমি কখনো তোমার জীবনে খারাপ থেকে খারাপ পরিস্থিতিতেও ভেঙে পড়োনি।।
এই বই সম্পর্কে আমার শেষ কথা?
এটি এমন একটা বই হয়তো তোমাকে একদম চমকে দেবে না কিন্তু ,
এই বইয়ে পড়লে এই বই তোমার মনে গেঁথে থাকবে দীর্ঘদিন। এই বই তাদের জন্য যারা পাঠকদের নির্দেশনার চেয়ে আত্মদর্শন এবং
প্রবণতার থেকে সত্যকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

