ভাস্বর মুখার্জী এর লেখা ” দ্য ফাউন্ডিং ফাদার অফ ফ্রড” বই এর পর্যালোচনা -Book review  of bhashwar Mukherjee “The founding father of fraud”

ভাস্বর মুখার্জী এর লেখা ” দ্য ফাউন্ডিং ফাদার অফ ফ্রড” বই এর পর্যালোচনা -Book review  of bhashwar Mukherjee “The founding father of fraud”

আমার ব্লগে তোমাদের সবাইকে আরো একবার স্বাগত। দেখো আজকে যে বইটার রিভিও দেবো সেটা bhaswar mukherjee এর লেখা 

কিন্তু কোন আর পাঁচটা সাধারন গল্পের বই না সেটা অনেকটাই পলিটিকাল কাহিনী এর উপর ভিত্তি করে লেখা

একটা বই। এই বই একটা রাজনৈতিক মতাদর্শের বই। তবে কোন ব্যক্তিগত ভাবে কোনো রাজনৈতিক দলকে টার্গেট করে  এই বই লেখা হয়নি,কিন্তু

এই বইতে এমন কিছু ডার্ক সিক্রেট আছে যেগুলো তোমার গায়ে কাঁটা পর্যন্ত ধরাতে পারে।

https://thebookscope.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%9f%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%be/

ভাস্বর মুখার্জি এর লেখা এই বই তাই তোমার পছন্দ বা অপছন্দ দুটোর তালিকাতেই থাকতে পারে।

তাহলে চলো এই বইয়ের রিভিউ শুরু করা যাক।

ভাস্বর মুখার্জী “The founding father of fraud” কি আছে বইতে?

দেখো একটা কথা আমার পাঠকদের বলে রাখি তুমি যদি বর্তমানকে জানতে চাও তাহলে তোমাকে অতীত কেউ জানতে হবে।

বর্তমান সময়ে আমরা যে স্বাধীন ভারতে বসবাস করছি সেটা ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট তার সমস্ত শক্তি আর সেই সময় তার ভিতরে থাকা দুর্বলতা নিয়ে,স্বাধীনতার স্বাদ লাভ করে, কিন্তু

এই সময় ভারত বর্ষ দারিদ্র ,নিরক্ষতা, সহিংসতা, শরণার্থীদের পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা, মুদ্রা স্মৃতি এবং ভাষাগত পার্থক্যhttp://Source: Times of India https://share.google/fklBIk5GSTrvMhoGQ

এত সমস্ত জটিল সমস্যায় জর্জরিত ছিল। কিন্তু এইরকম সামাজিক বিশৃংখলার মধ্যে কিন্তু

যারা লক্ষ্য ধরতে আগ্রহী তাদের জন্য তাঁদের জন্য অনেক আর্থিক সুবিধা ছিল,

Famous writer Bhaswar mukherjee image beside his book "founding fathers of fraud"
Bhaswar mukherjee with his new book (image: google images)

সেই সময় এর বেশির ভাগ শিল্পপতির রাজনৈতীক যোগাযোগ থাকা সত্বেও তাঁরা পন্ডিত জহরলাল নেহেরুর সমাজতান্ত্রিক,

প্রবণতা প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন। রামকৃষ্ণ ডালমিয়া, হরিদাস মুন্ধ্রার মত ব্যক্তিরা হুমকির আড়ালে থাকা সুযোগগুলোকে খুঁজে নিয়েছিলেন।

এই বইতে লেখক দক্ষতার সাথে সেই কেলেঙ্কারি গুলো কে তুলে ধরে তৎকালীন ভারতের একটা সুন্দর চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরেছে।

Source: Goodreads https://share.google/PQp3zhYNiXEty1eQN

তিনি ডালমিয়া ও মুন্ধ্রা কেলেঙ্কারির সুন্দর বর্ণনা তুলে ধরেছেন, যেটা সেই সময় ভারতীয় অর্থনীতিতে পুনর্গঠিত করেছিল এবং

জীবন বীমা কর্পোরেশন অর্থাৎ LIC জাতীয়করণ ও অন্যান্য সরকারি সংস্কারের পথ প্রশস্ত করেছিল।

এইরকম একটা জটিল ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক বিবরণ দেওয়ার যে কোন লেখকের কাছে বেশ কঠিন ব্যাপার কিন্তু

সাধারণ পাঠকদের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার তাগিদ যেমন লেখককে মাথায় রাখতে হয় ঠিক তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর,

লেখককে অনেক তথ্য জোগাড় করতে হয়। যার জন্য দরকার হয় ভীষণ দৃঢ়তা এবং অভিজ্ঞতা।

যে দুটোই ছিল এই লেখকের মধ্যে। এই ধরনের বইয়ের জন্য কি পরিমান গবেষণার প্রয়োজন হয় সেটা আমরা সবাই বুঝি, কারণ

ভারতবর্ষের মতো দেশে যেখানে মানুষের মতামত বিভিন্ন লক্ষ্যের কারণে বিভক্ত এবং যেখানে যুক্তি প্রায়শই অযৌক্তির নিচে চাপা পড়ে যায়।

এই মতামত প্রবণ সামাজিক প্লাটফর্মের যুগে এমন একটি বই যেটা প্রাচীনতম আর্থিক কেলেঙ্কারির গল্প আমাদের সামনে তুলে ধরে ,

সেই রকম একটা বই প্রকাশ করা বেশ কঠিন। এই বই লেখার সময় লেখক কে এটাও মাথায় রাখতে হয়েছে জানো কোনভাবে

এই বইয়ের বিষয় বস্তু যেনো lকোন রাজনৈতিক দলকে আক্রমণ না করে বা রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুকে পড়ে।

আমি যদি আরো খারাপ করে বলি তাহলে বলবো, আমাদের দেশের রাজনীতি কোনো সরল স্পষ্টবাদী দৃশ্যপটনায় যা উপরে উক্ত,

মাত্র ওই দুটো দিকেই মোড় নিতে পারে, এটি রাজনীতি এবং স্বার্থের সাথে জড়িত একটা জটিল সুতোর আঁকাবাঁকা অংশ।

লেখক সাহস করে অতীত ও বর্তমান অর্থ সামাজিক জলা বদ্ধতার মধ্যে গভীরভাবে ডুবে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছেন।

এবং বই এর আকারে ওটা মুক্ত বের করে নিয়ে এসেছেন। লেখক ডালমিয়া ও মুধ্রাকে তার বইতে শুধুমাত্র খলনায়ক

হিসেবে উপস্থাপন করেন নি, তাঁদের ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক, তাঁদের ভালোমন্দ সিদ্ধান্তের পিছনে থাকা জটিল চালিকা শক্তি,

কে তুলে ধরেছেন। লেখক মুখার্জি এর কথায় উভয় ব্যক্তির পটভূমি, ও ব্যক্তিত্ব চক ও পনির মতোই আলাদা ছিল কিন্তু

দুজনের মধ্যে যে একটা সাধারন বিষয় ছিল সেটা হলো দুজনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার উপস্থিতি। ভাষ্কর মুখার্জী ডালমিয়াকে শুদ্ধতাবাদ এবং

অপব্যায়তার অদ্ভুত মিশ্রণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বইতে তিনি মুনধ্রা কে ম্যাকিয়াভেলিয়ান বলেছেন ,তোমাদের জানার জন্য ম্যাকিয়াভেলিয়ান বলতে ,

চতুর, দ্বিচারিত্রিক, এবং নৈতিকতাহীন, আবেগহীনতা চরিত্র কে বোঝায়। এছাড়াও এই বইতে জহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বাধীন সরকারের,

সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গের গঠনমূলক আলোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক তদন্ত ও সংস্কারের প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেছেন।

পাঠকরা এই বই পড়তে পড়তে আরও অবাক হবেন যখন জানতে পারবেন যে দক্ষতার সাথে কঠোর পরিশ্রমের সিরি বেয়ে,

টাটা বিড়লার সাথে শীর্ষ স্থানীয় শিল্পপতি হয়েছিলেন, তার ব্যাক্তিগত, এবং

দার্শনিক পছন্দ গুলো এতটাই বৈপরীত্যে ভরা ছিল যে ডালমিয়াকে সত্যিই বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি একদিকে

যেমন ছিলেন একজন শিল্পপতি, একজন গান্ধীবাদী পুরুষ, তেমন ছিলেন ৬ বার বিয়ে করা, মেধাবী ও পরিশ্রমই মানুষ।

একজন সামান্য বাল্ব বিক্রি করা ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হয়ে কি ভাবে উনি নব সার্বভৌম দেশ এর অর্থনৈতিক স্তরে প্রবেশ করেছিলেন,

সেটাকে লেখক খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা করেছেন এই বইতে, সেটাও এলআইসি কেলেঙ্কারির নিমলিখিত আলোকে।

লেখক আরো বলেন যে পাঠকরা সেই সময়ের বেশ কয়েকজন বড় ব্যক্তি সম্পর্কে ধারণা পাবেন এই বইতে,

যেমন নেহেরুর জামাতা ফিরোজ গান্ধী যিনি ভিভিয়ান বোসের নেতৃত্বে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

লেখক নিশ্চিত যে পাঠকরা এই বইয়ের পরিশিষ্টটা পড়ে দেশের ইতিহাস পড়ার জন্য আরো উৎসুক হবে। এইজন্য এখানে লেখক ভালো শিক্ষাবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন,

কারণ তিনি তার এই লেখার ধরনের মাধ্যমে তরুন প্রজন্মের মধ্যে পড়াশোনার অভ্যাসটা জাগিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন।

লেখক নানা রাজনৈতিক তথ্য এবং ঘটনা লিখে সেটাকে একদম কল্পকাহিনীর মত আকর্ষণীয় করে তুলতে পেরেছেন তার বইতে।

লেখকের বুদ্ধিমত্তা এতটাই সুন্দর যে তিনি যখন প্রযুক্তিগত ভাষায় গভীরভাবে ডুব দেন তখন এটি খুব বোধগম্য হয়, কারণ

তিনি চান পাঠকরা তৃপ্ত হওয়ার সাথে সাথে উজ্জীবিত হোক। যদিও তার লেখা অনেক পাঠকের কাছেই একটু ভারী লাগে তবে,

তারা যদি লেখকের লেখা কোন শব্দ বা সেন্টেন্স এড়িয়ে যায় তাহলে পুরো বইটা সম্পর্কে ধারনাই তার কাছে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে এবং

সামগ্রিকভাবে ভাস্বর মুখার্জি পাঠকদের জ্ঞান ও রোমাঞ্চের একটা সম্মিলিত আনন্দ যাত্রায় নিয়ে গেছেন।

একটাই কথা বলব এই বই নতুন পাঠকদের জন্য একটা ভালো শুরুর জায়গা এবং

বিশেষজ্ঞদের জন্য একটা সুন্দর বিরতি কারণ এই বই আসলে লেখকের ব্যাপক গবেষণার প্রতি অদম্য উৎসাহ, দুর্দান্ত গল্প বলার একটা সুন্দর উদাহরণ।

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *