এই বই এর কাহিনী কে আত্মজীবনী মূলক বলবো নাকি কোন প্রেমের উপন্যাস বলব নাকি কোন মোটিভেশনাল কাহিনী বলবো,
সেটা বিচার করা এক কথায় কঠিন ,এক মৃত সৈনিক যে তার স্ত্রীর স্মৃতিতে ফিরে আসো। ১৯১৭ সালের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এবং
তুষারাবৃত একটা মাঠে সে সৈনিক হঠাৎই জেগে ওঠে। ইউরোপের ভিতরে তখন গভীর ক্ষত। চারিদিকে যেন ধ্বংসস্তূপ।https://thebookscope.com/namrata-agarwal-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ae-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80/
জীবন আর মৃত্যুর মাঝামাঝি সময় সে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঠিক এই সময় দেখা যায় জন তার স্ত্রীর স্মৃতিতে ফিরে এসেছে এবং তারা প্রথমে কি কি কথা বলেছিল সেগুলো ফুটে ওঠে।
এই কথাগুলো গল্পের এই জায়গায় অবান্তকর মনে হতে পারে। উপন্যাসের এই জায়গায় অ্যান মাইকেলস যে উওর দিয়েছেন তা থিসিস বিবৃতির মত মনে হয়।
এই বই এর কাহিনী শুরু হয় একজন জন নামের একজন আহত সৈনিক এর গল্প দিয়ে, সময় টা যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইউরোপ।
জন নামের সেই সৈনিক ফ্রান্স এর এক যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে নিজের জীবন ফিরে পেয়েছেন। এরপর এ এই গল্প যেনো একটা ভূতের গল্পের রূপ নেয়, এবং
অদ্ভূত ভাবে এই গল্প আবার একত্রিশ বছর এগিয়ে যায়। সেখানে দেখা যায় বিধবা হেলেনা মৃত্যের পর কি ভাবে
নিজেকে নতুন আবিষ্কার করেছে। নতুন ভাবে বাঁচতে শিখেছে। এরপর আমরা হেলেনার নাতনি ও মেয়ে সম্পর্কে জানতে পারি এবং
https://www.sallyflint.com/held-by-anne-michaels/
দেখা যায় দুজন ই ডাক্তার, তাদের পেশা তাদের নিয়ে যায় সেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত জায়গায় কিন্তু
ঠিক এই জায়গায় গল্প ফিরে যায় ১৯০৮ সালে ।সেখানে দেখা যায় নিউজিল্যান্ডর পদার্থবিদ, আর্নাস্ট রাদারফোর্ড,
এবং পোলিস ফরাসি পদার্থবিদ মেরিকুরিকে। মেরি কুরি কে এই কাহিনীতে আমরা নতুনভাবে চিনতে পারি। এবং
এর পরে কাহিনী আবার চলে আসে এক স্বৈরাচারি শাসন হাত এর থেকে পালিয়ে এস্তোনিয়া তে আসা এক দম্পতির উপরে।
বইয়ের এই জায়গাটা একদম জগার খিচুড়ির মতো। তোমার একদমই বোরিং লাগবে জায়গা টা।
এই বই এর কাহিনী দীর্ঘ একশো বছর সময় ধরে বিস্তৃত।১৯০২ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত।, কখন সামনে এবং
পিছনে বিস্তৃত। গল্পে উঠেছে উওর ইয়র্কশায়ার, সাফোক, ফ্রান্স, এবং এস্তোনিয়া।
এই বই প্রধান গল্পটি এক কথায় অস্পষ্ট। এই গল্প পড়ার সময় প্রেম, যুদ্ধ, বিশ্বাস, শিল্প, বিজ্ঞান, যেমন দেখতে পাবে, ঠিক তেমন, তুষার, ভূত, এবং
যুদ্ধক্ষেত্র এর মত বিষয় দেখতে পাবে তাই পড়ার সময় তোমার এই গল্প আসলে জগাখিচুড়ী মনে হবে।
এই বই এর গল্পের কিছু ভালো দিক?
এই বই এর কাহিনী তে মোট 12 টা অধ্যায় আছে এবং প্রতিটি অধ্যায় নির্দিষ্ট সময় আর চরিত্রের উপর আলোকপাত করে লেখা হয়েছে এবং
এই বই এর কাহিনীর ভালো দিক হলো এখানে ম্যাডাম কুরিকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যাকে আমরা সামান্য
বিজ্ঞানী হিসেবে জানি, তিনি রহস্যবাদ কে মিথ্যে প্রমাণ করার জন্য সেনসে যোগদান করেছিলেন। বই এর এই অংশটা কে বই এর একটা থিম বলা যেতে পারে, কারন
আমরা যা পর্যবেক্ষণ করি যা পরীক্ষা করতে পারি এবং যেটা আমাদের ইন্দ্রিয়ের বাইরে আছে তার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং
Anne michel এর মতে বিজ্ঞানের কিছু সীমাবদ্ধ থাকলেও বিজ্ঞান সব সময় আমাদের অসীম কিছুর দিকে ইঙ্গিত করে,
এবং সেটা অস্তিত্বের এমন একটা রাজ্য যার উপলব্ধি এখনো আমরা করতে পারিনা। এই বই এর কাহিনী আমাদের বিবেচনা করতে আমন্ত্রণ জানায় এবং
বলে যে বাস্তবের কতটা অংশ আমাদের কাছে অপ্রাপ্য যার কারণ হলো আমাদের নিজেদের বিবর্তন ও বিজ্ঞানের হাতিয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধতা।
এই বই থেকে আমরা সারা উইম্যানের স্টিল লাইফ এর কথা জানতে পারি, যেখানে একটা মানুষের মিথক্রিয়ার তীব্র প্রভাব গুলো দেখতে পারি।
এরপরে গল্প যখন এগিয়ে যায় তখন আমাদের সামনে এই প্রশ্ন আসে যে মৃত্যুর পর আত্মা আসলে কি?
আমার জন্য এই বইয়ের সব থেকে সহজ অংশ ছিল এই বইয়ের তৃতীয় অংশটা কারণ
এখানে আমরা দেখতে পাবো যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে মৃত্যুবরণ করার থেকে সে সাফোকে তার বাবার কাছে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই কাহিনীতে দ্বৈততার ওপর যে আলোকপাত করা আছে অর্থাৎ ভালো বা মন্দ কিংবা আলো বা অন্ধকার এর মত বিপরীত সহাবস্থান তাও আবার একটা ঐক্যবদ্ধ সমগ্র এর মধ্যে সেটা আমি খুব ভালো উপভোগ করেছি।
এই বই সম্পর্কে আমার শেষ মতামত?
এই বইয়ের কাহিনী পড়ে আমার একটা কথাই মনে হয়েছে যে স্পষ্টবাদী গল্পের পরিবর্তে এটা একটা ছাপোষা গল্প। এবং
যেটা সুন্দর কাব্যিক ভাষায় উপভোগ করতে চাইলে ঠিক আছে কিন্তু তুমি যদি শক্তিশালী গল্প পড়তে ভালোবাসো তাহলে এই কাহিনী তোমাকে হতাশ করবে।
কারণ কাহিনী এর র মধ্যে থাকা চরিত্রগুলো এর মধ্যে সংযোগ যেকোনো পাঠক পাঠিকা কেই খুব বিভ্রান্ত করবে।

