প্রবীর চক্রবর্তীর লেখা ছোট উপন্যাস “অমৃতের সন্ধান ” থেকে সেরা কিছু গল্প -Some of the best stories from the short novel “The Search for Nectar” written by Prabir Chakraborty

প্রবীর চক্রবর্তীর লেখা ছোট উপন্যাস “অমৃতের সন্ধান ” থেকে সেরা কিছু গল্প -Some of the best stories from the short novel “The Search for Nectar” written by Prabir Chakraborty

আমার ব্লগে তোমাদের সবাইকে আরো একবার স্বাগত। আজকে কথা বলব পেশায় ডাক্তার একজন ছোট লেখক প্রবীর চক্রবর্তীর একটা ছোট উপন্যাস “অমৃতের সন্ধান” নিয়ে। এই

১৫৯ পাতার বইতে মোট ২১ টা গল্প আছে। আর ২১ টা গল্পের মধ্যেই চরিত্রগুলো যেন একটা অমৃতের খোঁজ করছে। অমৃত মানে কিন্তু শুধু মিষ্টি না, হতে পারে সেটা মানসিক শান্তি, ছোটবেলার কোন সুন্দর মুহূর্ত,

কিংবা সত্যিকারের ভালোবাসা, বা কোন অনাথ গরিব বাচ্চার পড়াশোনা করার ইচ্ছা। আমি তো বলবো গল্পগুলোর সাথে  উপন্যাস টার নাম একদম খাপে খাপে মিলে গেছে।

প্রথম গল্প সূর্য উঠে :
প্রথম গল্প টা একদম সাদামাটা। জগৎ পেশায় একজন (R m p) required medical practitioner ডাক্তার। সে তার ফাঁকা চেম্বার এ বসে বাইরে থাকা রাস্তার কুকুর বেড়াল আর কাকের খাবার নিয়ে মারামারি দেখে,

সময় কাটাচ্ছে। ঠিক সেই সময় ওনার কাছে এসে উপস্থিত হয় একজন বৃদ্ধ মহিলা, যে একজন সামান্য কাজের মাসী।
তাঁকে কিছু সামান্য মেডিকেল টেষ্ট করতে দিয়ে হোস্টেল এ নিজের ছেলের সাথে ব্যারাকপুরে হোস্টেলে দেখা করতে যায় জগৎ। সেখানে থেকে আরেক সমস্যায় পড়তে হয়। বাস বন্ধ থাকার জন্য তাকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বারাসাত থেকে একটা অটোতে উঠতে হয়।,

A police officer sits beside a hospital bed holding a young child’s hand while the child’s mother stands nearby, showing emotional support during treatment.
সূর্য ওঠে গল্পের দৃশ্য (image source: google images)

পিঁপড়ের দল:

শহরতলীর এক উঁচু ফ্লাটে একাই থাকেন এক ভদ্রলোক। বয়স সত্তরের উপরে। কথাতেই ওনার পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে উনি এই ফ্ল্যাটে এসে উঠেছেন।

স্ত্রী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কয়েক বছর আগে।একাকীত্ব যেন এই ভদ্রলোককে এখন কুরে কুরে খায়। একমাত্র ছেলে আমেরিকাতে থাকে। ছেলে সব সময় বলে তার কাছে গিয়ে থাকতে কিন্তু উনি যেন কোনভাবেই এই জায়গা ছেড়ে বেরোতে পারেন না।

Shocked elderly man in a neglected bathroom with insect-infested walls, representing poverty, neglect, and psychological distress.
পিঁপড়ের গল্পের সেই

মাঝে মাঝে ওনার খুব কাছে এক বন্ধু যে গুরগাঁও তে তার ছেলের কাছে থাকে তাকে ফোন করেন। একাকীত্ব ওনাকে এমন ভাবে গ্রাস করেছে যে ওনার রাতে ঠিক ঘুম পর্যন্ত আসে না।
এইরকমই এক রাত্রে বেলা হঠাৎ ই ওনার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠে ড্রয়িং রূম এর মেঝেতে একদলা পিঁপড়ে দেখতে পান। এরপরে উনি ড্রয়িং রুম থেকে বাথরুমে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন গোটা বাথরুমের দেওয়ালে পিঁপড়ে গিজগিজ করছে।  যেন ওরা ওনাকেই আক্রমণ করতে আসছে।

এই গল্প থেকে পাওয়া শিক্ষা?
একা থাকার অভ্যাস যদি তোমার মধ্যে গড়ে না ওঠে তাহলে এইভাবেই একাকীত্ব একদিন তোমাকে গ্রাস করবে একা থাকতে থাকতে ভদ্রলোকের মধ্যে এমনই এক ইল্যুশন তৈরি হলো যেন মনে হল সামান্য নখের সমান পিঁপড়ে উনাকে গিলতে আসছে।

ভদ্রলোকের কাছে অমৃত বলতে ছিল একটু প্রিয় মানুষদের কাছে পাওয়া। যেটা উনি ওনার এই শেষ জীবনে পাননি

3.
অমৃতের সন্ধানে
       সনত পেশায় একজন সামান্য সরকারি কর্মচারী। ওর স্ত্রী মল্লিকা খুব ভালো গান গায়। পাড়ার ছোটখাটো ফাংশানে গান গেয়ে বেশ ভালো ই নাম অর্জন করেছিল ওর স্ত্রী। বউয়ের গান গাওয়া নিয়ে বউ এর থেকে বেশী প্যাশনেট সনত,এবং

বউয়ের এই গান গাওয়া বাড়িতে অনেকে অপছন্দ করতে না বলে বউকে নিয়ে একা অন্য একটা জায়গায় থাকতে শুরু করে সনত। বউকে সবসময় এই গান নিয়ে ক্যারিয়ার করতে

এবং গান নিয়ে অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখাতে থাকে সনত ।মাঝে মাঝে তার স্ত্রী অবাক হয়ে যেত স্বামীর এরকম পাগলামি দেখে।সে নিজে ভাবতো সে একদিন অনেক বড় গায়িকা হয়ে তার স্বামীর স্বপ্ন পূরণ করবে।

Bengali live music concert in Kolkata featuring a female singer on stage with a full band, professional lighting setup, and an energetic audience enjoying a cultural musical event.
অমৃতের সন্ধানে গল্পের দৃশ্য (image source:google images)

এমনকি নিজের প্রভিডেন্ট ফান্ডের  টাকা ভাঙিয়ে বউয়ের গানের সিডিও বের করেছিল সে।তবে সেই সিডি খুব একটা বিক্রি হয়নি তাও হাল ছেড়ে দেয়নি সনদ। বউকে নিয়ে শেষবারের মতো একটা রিয়েলিটি শোতে নিয়ে গেছিল ও,

কিন্তু দুর্ভাগ্য সেখানেও সনত ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত তার স্ত্রী সেখান থেকে তাকে অনেক বুঝিয়ে বাজিয়ে নিয়ে আসে।
” আর বলে”অমৃতের সন্ধান তো আমার বাড়িতেই আছে। আমি অন্য কোথাও কেন খুঁজতে যাব”

এই গল্প থেকে আমরা কি শিক্ষা পাই?
আমরা অনেক সময় সুখ , বাইরে খুজি। অথচ সেই সুখ, অমৃত কিন্তু আমাদের ভিতরেই থাকে। লেখক দেখিয়েছেন মল্লিকা জানিনা সে বড় গায়িকা কোনদিন হতে পারবে কিনা ,

কিন্তু সে এই সময় দাঁড়িয়েও সনতের মত একজন সৎ মানুষকে স্বামী হিসেবে পেয়েছি যে তাকে নিজের সবটুকু উজাড় করেও ভালোবাসে ।

অমৃতের সন্ধান বলতে মল্লিকার কাছে ছিল একজন সফল গায়িকা হওয়া, কিন্তু আসলে অমৃত তার কাছে ছিল তার স্বামী যে তাকে নিজের সবটুকু দিয়েই ভালবাসত।

3.
ভোরের আলো
      অঙ্ক জিনিস নিয়ে খুব passonate নিমাইবাবু, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন ওনার প্রতিদিনের নতুন খবরের কাগজ এলোমেলো হয়ে বারান্দায় পড়ে রয়েছে। দেখে বোঝা যাচ্ছে কেউ যেন কাগজটা খুলে পড়েছে।

কিন্তু প্রথম প্রথম ব্যাপারটাকে গুরুত্ব না দিলেও দেখলেন তা প্রতিদিন হচ্ছে। তাই ঠিক করলেন হাতে নাতে ধরবেন এই কাজ কে করছে। সেই জন্য তিনি ভোরবেলা ঘুম থেকে আগেই উঠে পড়লেন।

দেখলেন একটা বাচ্চা ছেলে বয়স পাঁচ থেকে ছয় বছর হবে সে খবরের কাগজের ছেলেটা কাগজ দিয়ে যাওয়ার পর একটা লাঠি দিয়ে সেই কাগজটা বারান্দার গ্রিলের দরজা দিয়ে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। 

An elderly man standing thoughtfully on a quiet apartment balcony, surrounded by potted plants and household details, with a newspaper lying open on the floor, evoking solitude and reflection.
ভোরের আলো গল্পের দৃশ্য(image source: google images)

হাতেনাতে তিনি সেই ছেলেটাকে ধরলেন। ছেলেটার বয়স 10 থেকে 12 বছর হবে। রোগা চেহারা। নিমাই বাবু একটু ধমক দিতেই ছেলেটা সব সত্যিই কথা বলে দিল।

বলল”ও পাসের পাড়াতেই থাকে, ক্লাস 4 পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে, এখন একটা দোকানে কাজ করে, ওর বাবা ট্রেনে লজেন্স বিক্রি করে, তাই ওকে আর পড়াতে পারেনি ” ।

তাই বাধ্য হয়ে ও ওই দোকানে কাজ করে। আর দোকান খোলার আগে ও এই জায়গা থেকে খবরের কাগজ নিয়ে পড়ে। পড়া হয়ে গেলে আবার সেটা ঢুকিয়ে রেখে দেয়।


     এরপর নিমাই বাবু  সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিদিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে চায়ের দোকান খোলার আগেই ছেলেটাকে নিজের কাজে পড়াতে বসাবে।

এই গল্প থেকে পাওয়া শিক্ষা?
একটা বাচ্চা ছেলের মধ্যে পড়াশুনার জেদ, শত দারিদ্রের মধ্যে থেকেও ছেলেটা পড়াশুনা করতে ভোলেনি, যেখানে তার বাবা , মা তাকে সাপোর্ট করে না,

যেখানে তাকে তার দারিদ্রতা সবসময় বাধা দেয় তাও ছেলেটা শুধুমাত্র নিজের ইচ্ছা ও জেদ থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে অন্যের বাড়ি থেকে খবরের কাগজ নিয়ে পড়ে এবং

সেখান থেকে জেনারেল নলেজ সংগ্রহ করে। এর থেকে বোঝা যায় ছেলেটার ভিতরে ইচ্ছে কতটা প্রবল। ছেলেদের কাছে আসল অমৃত ছিল ওর পড়াশোনা। যার সন্ধান ও করে গেছে গোপনে।

4.
গ্লাডিয়েটর
গ্ল্যাডি এটার কাদের বলে জানো? প্রাচীন রোমে গ্লাডিয়েটর বলা হত এক বিশেষ ধরনের যোদ্ধাদের। রোমান সাম্রাজ্যে ,

ক্রীতদাসদের একাংশও কে বিনোদনের জন্য গ্লাডিয়েটর করা হত। দুটো মানুষকে সুসজ্জিত অস্ত্রে সাজিয়ে মরণপণ যুদ্ধের মাঠে নামিয়ে দেওয়া হতো।

গ্লাডিয়েটের গল্পের দৃশ্য (image source:google images)

দুজন যোদ্ধা ক্রমশ আহত হচ্ছে রক্তাক্ত হচ্ছে তবুও যুদ্ধ থামবে না মারো অথবা মরো। যখন একজন পুরোপুরি ভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়বে তখনই এই যুদ্ধ শেষ হবে। আর এই দেখেই আনন্দ পেত স্টেডিয়ামে বসে থাকা দর্শকরা, বা রোমান  শাসকরা।

                            বর্তমান সময়টাও যেন ঠিক এই রকম । অনুজ আর দেব দুজনেই খুব ভালো বন্ধু। দুজনেই একদম নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। দুই বন্ধু সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছে।  যেখানে সামান্য একটা ক্লার্কসপে চাকরিতে ৫০০ সিটের জন্য দু লক্ষ লোক পরীক্ষা দিচ্ছে অর্থাৎ 

প্রতি ৪০০ জনে একজন।দুজনের পরিবারের কারোর অবস্থাই খুব একটা ভালো না। কিন্তু চাকরি একজনকে না একজনকে পেতেই হবে। তাই মারো অথবা মর। পরীক্ষার দিন দেবু আর অনুজ সামনে আর পিছনে পরীক্ষা দিতে বসেছে এবং

রীতিমতো দেবুর একটা প্রশ্নের ভুল উত্তর দিয়ে দেয় অনুজ। আর শেষমেষ যা হওয়ার তাই হয় অনুজ চাকরিটা পেয়ে যায়।
চাকরি পাওয়ার পরে অনুপ যেন একটা অনুশোচনায় ভুগতে থাকে। অনুজ কি কাজটা ঠিক করেছে ।

এই গল্প থেকে আমরা কি শিক্ষা পাই?

একটা ক্লার্কশিপের সরকারি চাকরি পাওয়া অনুপ এর কাছে অমৃতের মত ছিল যেন এই অমৃতের সন্ধান ও অনেকদিন ধরেই করছে তাই সেই অমৃত পাওয়ার জন্য ওর বন্ধুকেও মিথ্যে কথা বলতে দুবার ভাবেনি।

৫.
নারকেল গাছ:
এই গল্পটা অনেকটা ফ্যামিলি ড্রামার মত। কেন্দ্রীয় সরকারে চাকরি করা পিন্টু আর ওর বউ মিতালী দুটো মেয়েকে  নিয়ে বসন্ত কাকুর বাড়িতে ভাড়া থাকে। মিতালী আর পিন্টু দুজনেই খুব ঘুরতে ভালোবাসে। আর বসন্ত কাকুর স্ত্রী ঘোরার ইচ্ছা থাকলেও নিজের স্বামী যেহেতু ঘুরতে ভালবাসে না তাই আর উনার ঘুরতে যাওয়া হয় না এবং

প্রতিবার ট্যুরে গিয়ে পিন্টু আর ওর বউ কিছু না কিছু নিয়ে আসে যেমন বিখ্যাত সব জায়গায় রেপ্লিকা, শোপিস ইত্যাদি। আর কাকিমা সেই সব জিনিসগুলো নিজের ঘরের শোকেসে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখে।

নারকেল গাছ গল্পের সেই নারকেল গাছের তলায় বসন্ত কাকু আর কাকিমা

আবার মাঝে মাঝে বসন্ত কাকুর বাড়ির উঠোনে থাকা বড় বড় দুটো নারকেল গাছ থেকে মাঝে মাঝেই নারকেল পিন্টু আর মিতালীদের দেয় কাকিমা।

দক্ষিণেশ্বরে গিয়ে মায়ের মন্দিরে পূজো দেওয়ার। পিন্টু একবার চেষ্টাও করেছিল কিন্তু সেটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

ঠিক কিছু বছর পর পিন্টুর প্রমোশন হয়। পিন্টু ও স্ত্রীকে নিয়ে পুনেতে চলে যায়। তারপরে পিন্টু যোগাযোগ রেখেছিল ফোনে বসন্ত কাকুর সাথে।

ধীরে ধীরে সময়ের সাথে সাথে সেই যোগাযোগ একসময় ম্লান হয়ে যায় যেটা স্বাভাবিকভাবে আমাদের হয়ে থাকে।


এরপরে পিন্টু অনেক বছর পর এসেছিল বসন্ত কাকুর সাথে দেখা করতে কিন্তু ততদিনে বসন্ত কাকু মারা গেছে। কাকুর দুই ছেলে বাড়িটাকে প্রোমোটারের হাতে দিয়ে দিয়েছে আর,

বসন্ত কাকুর ছেলে কাকিমাকে দক্ষিণেশ্বরের কাছেই একটা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এসেছে। আর সেই উঠনে থাকা নারকেল গাছটা ফ্ল্যাট বাড়ি হবে বলে ইতিমধ্যে কাটা হয়ে গেছে।

এই গল্প থেকে আমরা কি শিক্ষা পাই?

কাকিমার কাছে অমৃত ছিল একটু কোথাও ঘুরতে যাওয়া। যার সন্ধান কাকিমা সারা জীবন করে গেছে। এমনকি শেষ জীবনে তার একটু ইচ্ছা ছিল দক্ষিণেশ্বর যাবে সেটাও তার পূরণ হয়নি।
৬.
কাঁটাতারের বেড়া-
যুবক ছেলে শংকর মুম্বাইতে সোনার দোকানে কারিগরের কাজ করে। সে আরো পাঁচটা পরিযায়ী শ্রমিকের মতোই সে দীর্ঘদিন পর সে গ্রামের বাড়িতে ফিরছে মুম্বাই মেলে। 

তার গ্রামের বাড়ি একদম বাংলাদেশের বর্ডার লাগোয়া পলাশপাড়ায় যেটা ইছামতি নদীর ধারে ,

কাঁটাতারের বেড়া গল্পের সেই বিখ্যাত দৃশ্য (image source: google images)

ট্রেনে করে আস্তে আস্তেই শংকরের তার গ্রামের কথা তার দাদুর কথা তার ছোটবেলার কথা মনে পড়ছে। দাদু শংকরের খুব প্রিয় ছিল। শংকরকে ওর দাদু প্রাণের থেকেও বেশি ভালোবাসতো। ওকে বাংলাদেশের গল্প করত এবং

ছোটবেলায় কাটানো দাদুর সাথে নানা কথা ভাবতে ভাবতে চিন্তা করতে করতে যখন ফাইনালি মুম্বাই মেল পশ্চিমবঙ্গে ভিতরে ঢুকলো তখন শংকর জানতে পারলো বহু জায়গায় বন্যার জন্য তার ট্রেন লেটে চলছে।

তাই যে সময় মুম্বাই মেলে হাওড়ায় ঢুকে যাওয়ার কথা ছিল সেই সময় সেই ট্রেন খড়্গপুরে দাঁড়িয়েছিল। তারপর সন্ধ্যেবেলায় মুম্বাই মেল হাওড়া পৌঁছাতেই শংকর জানতে পেরেছিল তার বাড়ির দিকে ব্যাপক বন্যা হয়েছে।

তাই বারাসাত হাসনাবাদ লাইনে সমস্ত ট্রেন পুরোপুরি বন্ধ। তাই কোন রকমে বারাসাত পর্যন্ত পৌঁছে টাকি রোড ধরে হেঁটে সে যখন ফাইনালি পাড়ায় পৌঁছালো তখন দেখতে পেল তার বাড়ি ৮ ফুট জলের মধ্যে নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

শংকর পাগলের মত খুঁজতে লাগলো ওর দাদকে। চারিদিকে বন্যার জল আর তার মধ্যে ভেসে রয়েছে নানা মরা পশু পাখির দেহ। সংকর দেখল বন্যায় বাংলাদেশ আর ভারতের সীমান্ত যেন এক হয়ে গেছে।

প্রকৃতি কখনোই সীমানা বা কাঁটাতারের বেড়া মানে না।সেই দিন না পেলেও পরের দিন নৌকা নিয়ে বেরিয়ে শংকর দেখতে পেয়েছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার একটা জামরুল গাছের ডালে ওর দাদুর দেহটা আটকে রয়েছে।

এই গল্প থেকে আমরা কি শিক্ষা পাই?

এই গল্পে আমরা দেখতে পাই যে শংকরের কাছে অমৃত ছিল ওর দাদুর সাথে দেখা করার যে শংকর থেকে বহু দূরে তার গ্রামে থাকতো। কিন্তু সেই অমৃতের সন্ধান করতে গিয়ে এসে দেখতে পেল তার দাদু পড়লোক গমন করেছে বন্যায়।

7. শ্রেণী শত্রু
এইটা আর একটা মাস্টারপিস গল্প এই ছোট উপন্যাসের। অরূপ আর সুনীল সবেমাত্র উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দত্তপুকুর এর ছোট্ট একটা স্কুল থেকে স্কুল জীবন শেষ করে কলকাতার একটা ভালো কলেজে এসে ভর্তি হয়েছে। সেখানে তাদের প্রথম পরিচয় ছাত্র রাজনীতির সাথে। স্কুল লাইফ থেকেই তাদের অটুট বন্ধুত্ব। কিন্তু

তাদের এই বন্ধুত্বের চির ধরে যখন দুজনে কলেজে এসে আলাদা আলাদা ইউনিয়নের দলে যোগ দেয়। এখানেই ওরা কলেজের সিনিয়র দাদাদের কাছ থেকে “শ্রেণী শত্রু”শব্দটার সাথে পরিচিত হয়। অর্থাৎ

শ্রেণী শত্রু গল্পের দুই বন্ধুর মারামারি দৃশ্য (image source: google images)

এখানে শ্রেনী শত্রু তারাই যারা কলেজে থেকেও কলেজের ভালো চায় না।
এক সময় সুনীল যেখানে অরূপের স্কুল জীবন পর্যন্ত অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিল, শুধুমাত্র কলেজে এসে অন্য রাজনৈতিক দলে নাম লেখানোর জন্য শ্রেণী শত্রু হয়ে গেল। এই গল্প থেকে শিক্ষা পেলাম রাজনীতি কিভাবে দুটো ছেলের সুন্দর বন্ধুত্বকে নষ্ট করে দিল।

8. ছিনিয়র ছিটিজেন
মাত্র দুপাতার এই গল্পটা আমাদের আশেপাশে থাকা  ৬০ উর্ধ মানুষের গল্প। যাদেরকে আমরা সিনিয়র সিটিজেন বলি। গল্পে অনুকূলচন্দ্র একজন বয়স জ্যৈষ্ঠ লোক । সে গ্রামে একটা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে 40 বছর চাকরি করেছে। ,

সে কলকাতায় যাচ্ছে তাঁর ভাইপো যাদবচন্দ্রের হাত ধরে তার পেনশন এর তদারকী করতে। কারণ ৪০ বছর চাকরি করে রিটায়ার করার পরও তার পেনশন এখনো চালু হয়নি।

  ভিড় ট্রেনে উঠে স্বাভাবিক ভাবেই ভাইপো যাদব চন্দ্র সিনিয়র সিটিজেন সিট এর দিকে নিয়ে যায় নিজের বৃদ্ধ কাকাকে। আর তখন ই  ভাইপোর কাছে তার কাকার সিনিয়ার সিটিজেন হওয়ার প্রমাণ চায় ওই জায়গায় বসে থাকা কিছু ছেলে।

ছিনিয়ার সিটিজেন (image source: google images)

ভাইপো যাদব চন্দ্র সিনিয়র সিটিজেন কার্ড দেখালেও যেন তাদের রাগ এই বৃদ্ধ মানুষটার ওপর আরো বেড়ে যায় ।

আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য এরকম ধরনের মানুষকে দায়ী করতে থাকে ছেলেগুলো, যেমন আমাদের দেশে কোন ইন্ডাস্ট্রি নেই ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়ে চাকরি-বাকরি নেই চারিদিকে এত দুর্নীতি এইসব।

ছেলেগুলো চলে যাওয়ার পর যাদব চন্দ্র তার ভাইপোর কাছে জানতে চাইলে যে ছেলেগুলো তাকে কি কি বলে গেল। সবটা শোনার পর অনুকূল চন্দ্রের মুখ থেকে একটাই কথা বেরিয়ে এলো”তাই তো রে হরি বড় অন্যায় হয়ে গেছে”

এই গল্প থেকে আমরা কি শিক্ষা পাই?

এই গল্প দেখে আমরা জানতে পারি অনুকূলচন্দ্র এর কথা। যার কাছে অমৃত মানে ছিল চাকরি জীবনের শেষে সরকার থেকে পাওয়া পেনশন টুকু। সেইটুকু পেতে গিয়েও যেন অনুকূল চন্দ্র কে কত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়


আলো আধারি
একজন ডাক্তার এর জীবন কে নিয়ে। সঞ্জীব পেশায় একজন স্ত্রী রোগ বিষেশজ্ঞ ডাক্তার। গোল্ড মেডেলিস্ট। ওর কলেজ এর প্রোফেসার “ঘোষ” ওকে নিয়ে খুব গর্বিত এবং

তিনি তার ডাক্তারি ছাত্রের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে সে খুবই আশাবাদী। নিজের প্রেমিকা সায়ন্তনী কে নিয়ে সুন্দর আলো ময় জীবন তৈরি করার স্বপ্নে বিভোর সে কিন্তু,

আলো আঁধারী গল্পের সেই ডাক্তার এর দৃশ্য (image source: google images)

তার সেই ডাক্তার ছাত্রের জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। অতিরিক্ত লোভের বশবর্তী হয়ে একের পর এক ভুল করে মামলায় ফেঁসে যেতে থাকে সে। একটা সময় তার  ডাক্তারির রেজিস্ট্রেশন বাতিল হওয়ার মুখে চলে আসে।

তার প্রেমিকা ওরফে তার স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যায়। সে তার একমাত্র ছেলেটাকেও ভালো করে মানুষ করতে পারেনি সেও বকে যায়। এইভাবে ডাক্তার সঞ্জীবের আলোমায় জীবনে আধার নেমে আসে। সে শেষমেষ নিজেকে আত্মহত্যার পথে নিয়ে যায়।
১০.
ঝিলিমিলি
এটাও এক মধ্যবিত্ত পরিবারের বউ মৌমিতার কাহিনী। পুজোর দিনে হঠাৎ করে সুস্থ করে মৌমিতা । এমনকি ওর স্বামী ও ওকে পুজো বন্ধ রাখতে বলে। কিন্তু মৌমিতা রাজি হয় না । 

পরের দিন মৌমিতা শরীর এতটাই খারাপ হয়ে যায় মৌমিতা আর খাট থেকে উঠতে পারে না। তাই পূজো বন্ধ করে দিতে হয় । ওর বাড়িতে দুধ দিতে আশা দুধ আলা , পুজোয় ঠাকুরকে পরানোর জন্য মালা দিতে আসা লোকটা এবং

পুজো করতে আসা পুরোহিত কে পুরো টাকাটাই পেমেন্ট করে দেয় মৌমিতার স্বামী মৌমিতার কথাতে কারণ মৌমিতা জানে জিনিসগুলো ও না নিলে সেগুলো নষ্ট হবে। এর  পরে ওর ব্লাড টেস্টে ডেঙ্গু ধরা পড়ে মৌমিতার এবং সাথে সাথে ওকে হসপিটালে এডমিট করতে হয়।

ঝিলিমিলি গল্পের মৌমিতার পরিস্থিতি (image source: google images)

ডাক্তার ওর হাজব্যান্ড কে বলেন একজন ব্লাড ডোনার জোগাড় করতে। সাথে সাথে সেই মানুষগুলো হাজির হয় যাদের কথা মৌমিতা ভেবেছিল অর্থাৎ সেই ফুল বেচার লোকটা সেই দুধ,

দেওয়ার লোকটা আর সেই পুরোহিত।। তারাই মৌমিতাকে রক্ত দিতে এগিয়ে আসে। এর থেকে বোঝা যায় মানুষকে সাহায্য করলে মানুষও একসময় সাহায্য করে।

এই গল্প থেকে আমরা কি শিক্ষা পাই?

পুরোহিত আর ফুল বিক্রেতাদের কাছে মৌমিতা অমৃতই ছিল।

11.
মেঘ ভাঙা রোদ্দুর:
এই গল্প লেখা হয়েছে ১৯৭১ সালের কলকাতা কে কেন্দ্র করে। চারিদিকে তখন রাজনৈতিক অস্থিরতা। সেই সময় ঘুরে ঘুরে রামভরস মাহাতো নামে একটা লোক ঘুরে ঘুরে পুরনো কাগজ কিনে সংসার চালায়।

এরকমই একদিন সে পুরনো কাগজ কেনার জন্য কলকাতার অলিতে গলিতে ঘুরছে ঠিক সেই সময় তাকে ছেঁকে ধরে সুমন অঞ্জন আর রাজীব। যারা সশস্ত্র আন্দোলনের সাথে জড়িত। রাজিব ওই কাগাজওয়ালাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল,

মেঘ ভাঙ্গা রোদ্দুর গল্পের দৃশ্য (image source:google images)

কারণ ও ভেবেছিল এ নিশ্চয়ই পুলিশের informer। কিন্তু সুমন বাধা দিয়েছিল, এমনকি সুমন ওই কাগজওয়ালার কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে তার বাড়ি গিয়ে সে সত্যি কথা বলছে কিনা সেটাও জেনে এসেছিল।
এর কয়েক দশক পর যখন সুমন অ্যারেস্ট হয় তখন সেই কাগজওয়ালার ছেলেই সুমনকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করেছিল। কারণ সে ততদিনে একটা পুলিশের চাকরি পেয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নিয়েছে ।

এই গল্প থেকে আমরা কি শিক্ষা পাই?

পুলিশের কাছে অ্যারেস্ট হওয়া সুমনের কাছে অমৃত ছিল বাইরের মুক্ত জীবন। যেটা ওকে দিয়েছিল একটা তরুণ পুলিশকর্মী। যাকে একদিন সুমন সাহায্য করেছিল।

12. ৫২ নম্বর রুগি
এই গল্পটার বিষয়বস্তু একজন আলাদা। একটা ছেলে যে ক্লাস টুয়েলভে পড়ে যার নাম সানি।সে হঠাৎ করেই স্কুল এর লাইব্রেরি থেকে নানা ধরনের আন্তর্জাতিক রাজনীতির  বই পড়তে শুরু করে যেমন war and pice, all qoaet on the western front, দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন, এই সব এবং

যেটা নজরে যায় তার বাবার পার্টি করা এক  বন্ধু মানবদার। সে রীতিমতো সানির বাবা দেবেশকে ডেকে দেখায় তার ছেলে কি সব বই পড়ছে।

মানব দা তার বাবাকে বোঝায় এইসব বয়সে এই বই পড়লে তার ছেলে বুকে যেতে পারে। সানির বাবা দেবেশ এইসব দেখে ছেলেকে বাড়িতে রীতিমতো বকাঝকা করে তাতেও কোন লাভ হয়নি।

সানি আবার তার বন্ধু রনিকে সাথে করে নিয়ে গিয়ে আরো নানা ধরনের বই আদান-প্রদান করে যার মধ্যে ছিল গুপ্ত যুগের বিচার ব্যবস্থা থেকে রুম সাম্রাজ্যের ইতিবৃত্ত নিয়ে বই,

ছিল ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব নিয়ে লেখা বইও। আর এইসব একটা গোপন ক্যামেরায় দেখতে পেয়ে যায় সেই মানব দা।

মানবদা তার বাবাকে বোঝায় যে এমন একটা সিক্রেট প্রকল্প চালু করেছে যেখানে ছেলেমেয়েদের ব্রেন ওয়াশ করা হবে, যাতে তারা কোন এনটি সোশ্যাল কাজ না করে। এবং

এই ব্রেনওয়াসের মধ্যেই এই দুটো ছেলে অর্থাৎ তার ছেলে সানি ও তার বন্ধু রনিকে নিয়ে যাওয়া হবে যেখানে সার্জারির মাধ্যমে ব্রেইন থেকে এই সবগুলো বের করে ফেলা হবে।
সেই রোগীদের তালিকা তেই ছিল দেবেশ বাবুর ছেলে যার নম্বর ছিল ৫২ নম্বর।

এই বই থেকে আমরা কি শিক্ষা নিতে পারি?

ছেলে বকে যেতে পারে এই চিন্তা থেকে ছেলের ব্রেন ওয়াশ করাতে নিয়ে গিয়েছিল তার বাবা, আর এটাই ছিল সেই বাবার কাছে অমৃতের এক সন্ধান।

13. বিসর্জন
       এই গল্পলেখা হয়েছে একজন সরকারি ডা দেবংশু বিশ্বাস, আর তাঁর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নাবালিকা রুগী দুর্গা মাহাতো কে নিয়ে। ম্যালেরিয়া তে ভূগে মেয়েটা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ওর এক্ষুনি রক্তের দরকার কিন্তু

গরিবের পরিবারে মা বাবার আরও চারটে মেয়ে আছে । সরকারি ব্লাড ব্যাংক এ রক্ত নেই। দেবাংশু সব চেষ্টাই করে , ব্যাংকে ব্লাড না থাকলেও ব্লাড ডোনারকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসার চেষ্টা করে কিন্তু সব জায়গায়তেই ব্যর্থ হয় ডক্টর দেবাংশু।
     অবশেষে সেই মেয়ে মহালয়ার ভোররাত্রে মহালয়া শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই মারা যায়, গল্পটা এমন ভাবে শেষ হয় যেন মহালয়া শুরু হওয়ার আগেই মা দুর্গার বিসর্জ হয়।

বিসর্জন গল্পের সেই দৃশ্য (image source: google images)

এই গল্প থেকে আমরা কি শিখতে পারি?

বাচ্চা মেয়েটাকে বাঁচানোর জন্য এক বোতল রক্ত হয়েছিল অমৃতের মত ,কিন্তু

ডক্টর দেবাংশু সেই অমৃতটা যোগাড় করতেও যেন একদম ব্যর্থ হয়। আর মেয়েটাও গল্পের শেষে মারা যায়


14. প্রতিবন্ধী
       এই গল্পটা লেখা হয়েছে একটা প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে। যে কারোর সাহায্য ছাড়া একা জীবনে নিজের শিরদাঁড়া উঁচু করে বাঁচতে চায়, ।
        যে অন্য আর আরো পাঁচ জন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। যে মেয়ে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও মানসিকভাবে সে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী আর যে খুব বিনয়ী।
       প্রতিবন্ধী হয়েও একটা অটোতে নিজের আরামের জায়গাটা একজন সত্তর ঊর্ধ্ব বৃদ্ধা মানুষকে ছেড়ে দেয়, এবং নিজে একটা uncomfortable জায়গায় চলে আসে। যেখানে ওইখানে থাকা আর বাকি দুজন দেখেও না দেখার ভান করেছিল।
           গল্পের প্রথমে দেখতে পাবে প্রতিবন্ধী মেয়েটা নিজের কর্ম ক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য অটো ধরতে যায়। ওই অটোতে তখন ড্রাইভার এর বাঁদিকের সিটটাই খালি ছিল। ড্রাইভারের আপত্তি সত্ত্বেও সে ওই সিটে বসেই যাত্রা করে।

ই গল্প থেকে আমরা কি শিখতে পারি?

প্রতিবন্ধী মেয়েটার কাছে অমৃত ছিল তার আত্মবিশ্বাস। আর নিজে প্রতিবন্ধী হয়েও একা শির দ্বারা উঁচু করে বেঁচে থাকার মনের জোর।

15. হারানো অ্যালবাম
                     এটা মূলত একটা বালকের বাল্য জীবনকে ফ্ল্যাশবাকে দেখিয়েছেন লেখক। এই গল্পটাই তাই জন্য বিশেষ করে কিছু আর বলার নেই মাত্র সাত পাতার গল্পে একটা ছেলের বাল্যকালের ছোট ছোট ঘটনাগুলোকে,

বা ঘটনা বললেও ভুল হবে স্মৃতিগুলোকে লেখক এখানে সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। বইটা যখন কিনেছো অন্য গল্প গুলোর মত অতটা ভালো না লাগলেও এই গল্পটা পড়তে  খারাপ লাগবে না।

এই গল্প থেকে আমরা কি জানতে পারি?

একটা পরিণত ছেলের কাছে তার বাল্য জীবন টাই যেন একটা প্রকৃত অমৃত যার সন্ধান সে করেছে এই গল্পের মধ্যে দিয়ে।

16.
সাবিত্রী বেলার ছানি চিকিৎসা
        এটাও একটা সাদামাটা গল্প। সাবিত্রী বেলা বলে এক বৃদ্ধ মহিলার চোখের ছানি চিকিৎসা কেন্দ্র করে  এই গল্পটা লেখা হয়েছে। গল্পটায় সেইভাবে বিশেষ কিছু ইন্টারেস্টিং নেই। একদম সাদামাটা আর পাঁচটা গৃহস্থ্য পরিবারের একটা গল্প। তাই বইটা যখন কিনেছ এই গল্পটা স্কিপ করে যাওনি তবে আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি গল্পটা তোমার আহামরি খুব একটা ভালো লাগবে না।।

এই গল্পটা থেকে আমরা কি জানতে পারি ?

একজন বৃদ্ধ মহিলার কাছে তার দৃষ্টি ফিরে পাওয়ায় যেন আসলে একদম অমৃতের মত।

17. জঙ্গলের রাজা

এটা এই বইয়ের আবেগপ্রবণ গল্প গুলোর মধ্যে একটা। হারু আর মন্টুর বন্ধুত্বকে ছোটবেলার বন্ধুত্বকে এখানে খুব সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে। যেমন এই গল্পটার মধ্যে ছোটবেলার দুষ্টুমি আছে তেমনি ভালোবাসা আছে তেমনি সাহসও আছে।

মন্টু দীর্ঘদিন পর তার দেশের বাড়ি ফিরছে। আর মনে পড়েছে তার ছোটবেলার বন্ধু হারুকে। যে হারুর সাথে ও বিশ্বকর্মা ,

পূজায় ঘুড়ি উড়িয়েছে অন্যের বাগানের আম চুরি করে খেয়েছে, আরো কত না দুষ্টুমি করেছে। মন্টুর চোখে হারু তখন জঙ্গলের রাজা।

কিন্তু মন্টু যখন ৩০ বছর পর আবার গ্রামে ফিরে আসে । গ্রামে ফিরে এসে একদম অবাক হয়ে যায় মন্টু। সেই গ্রাম আর আগের মত নেই চারিদিকে বড় বড় বিল্ডিং উঠেছে।

জঙ্গলের রাজা গল্পের দৃশ্য মন্টু আর হারুর দৃশ্য (image source: google images)

  অনেক খুঁজে হারু বাড়ি খুঁজে পায় মন্টু । মাঠে-ঘাটে বাঁশ বাগানে চড়ে বেড়ানো হারু ৫০ বছর বয়সী এক মধ্য বয়স্ক মানুষ।
যার দিন চলে অনেক কষ্টে। সেই জঙ্গলের রাজা আজ যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। তাই শেষে দেখা যায় সেই জঙ্গলে নেই আর সেই জঙ্গলের রাজা হওয়ার নেই ।

এই গল্প থেকে আমরা কি জানতে পারি?

মন্টু তার গ্রামে তার ছোটবেলার অমৃতকেই খুঁজতে এসেছিল। যে অমৃত ছিল মন্টুর ছোটবেলার বন্ধু হারুর মধ্যে। কিন্তু অমৃত খুঁজতে এসে মন্টু যেন একদম অবাক হয়ে গেল

18.
পিছল:
এটা এই বইয়ের আরেকটা ফ্যামিলি ড্রামা বলতে পারো। রমেন বাবু আর ওনার স্ত্রী অনিমা নিজেদের 35 তম বিবাহ বার্ষিকী উদযাপন করতে ইউরোপ ঘুরতে যায় কলকাতার একটা ট্যুর অপারেটরের সাথে।

যদিও এই টুরের সমস্ত খরচায় দেয় ওনার দুই প্রতিষ্ঠিত ছেলে।
প্রথম প্রথম ইউরোপে গিয়ে tour  ঠিকঠাকই চলছিল। বার্লিন থেকে রমেনদের কলকাতায় ফেরার কথা , কিন্তু ওদের ট্যুরের গ্রুপের একজন হঠাৎ করে শপিংমলে শপিং করতে গিয়ে পা,

পিছলে পড়ে আহত হয়। তারপরে উনাদের কলকাতায় ফেরা নিয়ে কি জটিলতা সৃষ্টি হয় সেটা নিয়ে এই ১১ পাতার গল্পটা লেখা হয়েছে।
তবে সত্যি কথা বলতে এই গল্পটা আমার খুবই বোরিং এবং মাঝারি মানের লেগেছে।
এই গল্প থেকে আমরা কি আনতে পারি?

এই গল্প থেকে আমরা জানতে পারি নিজেদের বিবাহ বার্ষিকীর অমৃত খোঁজ করতেই ইউরোপের ঘুরতে গিয়েছিলেন রমেন বাবুর আর ওনার স্ত্রী কিন্তু

সেখানে গিয়েও এক অদ্ভুত পরিস্থিতি সম্মুখীন হতে হয় তাদের।


19. পতিব্রতা:

এই গল্প দুটো মেয়ের একজনের নাম কালি একজনের নাম লতা, দুজনেই লোকের বাড়ি ঘর মোছা , বাসন মাজা ,রান্না করা কাজ করে তাদের জীবন চালায়।

দুজনেই খুব ভালো বন্ধু। একই ট্রেনে যাতায়াত করে দুজন। আরো পাঁচটা যাত্রি দের মত গল্প করে টাইম পাস করে।
এর মধ্যে কালির বয়স প্রায় চল্লিশ এর কাছে, ওর গায়ের রং

ও বেশ কালো, মুখটা টা মিষ্টি।মেয়ে হয়েও ওর শরীর এর গঠণ কি রকম ছেলেদের মত।।ওর মাসিক ও হয়না।

কালী জানে ওকে কোনো ছেলে খুব একটা পছন্দ করবে না, দুটো মেয়ের জীবন এই ভাবেই চলতে থাকে।


এরই মধ্যে বিয়ে ঠিক হয় লতার । লতা কালিকে বার বার বলে আসতে বলে তার বিয়েতে। লতার জন্য ব্যাগ ও কেনে কালি।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে কালি লতাকে কথা দিয়েও যেতে  পারেনা ওর বিয়েতে। সেটা নানা অসুবিধার কারনে।

এরপরে বিয়ে কাটিয়ে লতার সাথে কালির স্টেশনে দেখা হয়। দুজনের বেশ খোশ মেজাজে যে গল্প করতে থাকে।

এরপরে কালি আরেকটা জায়গায় ভালো কাজ পায় যেখানে ওকে সব সময় থাকতে হবে। আর ও লতা থেকে পুরোপুরি আলাদা হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন পর লতার সাথে কালীর স্টেশনে দেখা হয়। এবং দুজনেই বেশ জমিয়ে গল্প করতে থাকে। সেই সময় স্টেশনে বসে থাকা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথোপকথন শুরু হয় ওদেরকে দেখে।

লতা কে দেখে পেশায় ডাক্তার সেই স্বামীর মনে হয় যেন একটা প্রতিব্রতা নারীর সুন্দর উদাহরণ। যে নারী এই সময় দুর্লভ। এমন নারী যে স্বামীর কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে।
বোরিং টাইম।

এই গল্পতে অমৃত কোথায় লুকানো আছে?

এখানে লেখক অমৃত বলতে দুটো মেয়ে নিবিড় বন্ধুত্ব কে বুঝিয়েছেন। যে বন্ধুত্ব সবকিছুর উপরে।

২০. কালীচরণ
কলকাতা থেকে একজন তার স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়ে খাজুরাও ঘুরতে গেছে। সেখানে গিয়ে পড়ে এক বিপদে।

লোকাল বাসে সফর করার জন্য তার হোটেলে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যায় শেষ পর্যন্ত তাকে হোটেলে যেতে সাহায্য করে কালিচরণ নামে এক অটো ড্রাইভার।


যেতে যেতেই ওই অটো ড্রাইভার এর জীবন সম্পর্কে জেনে নেয় ওই লোকটা। খারাপ লাগার জন্যই অটো ড্রাইভার কালীচরণকে বেশ কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করে সে।

এর পরের দিন সকাল বেলা বাড়ি ফেরার পালা তখন কালিচরণেরই অটো নিয়ে আসার কথা।
কালীচরণ সময়ের দেরিতে এলে সকাল বেলা তার নতুন অতিথিদের জন্য পায়েস বানিয়ে নিয়ে আসে। কারণ সে মনে করে তাকে যে সাহায্য করেছে তাদেরকে খালি মুখে কখনো ফিরিয়ে দিতে নেই।


 এই গল্প থেকে আমরা কি জানতে পারি?
এর পরের দিন সকাল বেলা বাড়ি ফেরার পালা তখন কালিচরণেরই অটো নিয়ে আসার কথা।

কালীচরণ সময়ের দেরিতে এলে সকাল বেলা তার নতুন অতিথিদের জন্য পায়েস বানিয়ে নিয়ে আসে। কারণ সে মনে করে তাকে যে সাহায্য করেছে তাদেরকে খালি মুখে কখনো ফিরিয়ে দিতে নেই।

এই গল্পে অমৃত বলে দেখানো হয়েছে একটা সামান্য অটো ড্রাইভারের মানসিকতাকে। এই স্বার্থপরতার যুগেও এইরকম অমৃত মনের মানুষ পাওয়া সত্যিই কঠিন।

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *