আমার ব্লগে তোমাদের আর একবার স্বাগত।। ইতিহাস নিয়ে ঘাটা ঘাটি করতে তোমার কেমন লাগে? যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আজকে, সঞ্জীব সান্যাল এই
বইটা “the Ocean of churn” তোমাদের জন্য। বই এর বাংলা অর্থ করলে হয় “সাগরের মন্থন”। এই বইটা লেখা হয়েছে ভারত মহাসাগরকে কেন্দ্র করে লিখেছেন sanjeev Sanyal
সত্যি কথা বলছি ভাই “ভারত মহাসাগর”এর পিছনে যে এতো বড় একটা ইতিহাস আছে সেটা আমার জানা ছিলনা।
ভারত মহাসাগর কিভাবে বাণিজ্যে এবং অভিবাসনে সাহায্য করে যে সেই গল্পই উন্মোচন করে এই বই।http://Oceans – Five Books Expert Recommendations https://share.google/mizhP5vbE3ysJtx22
সুমাত্রা রাজাদের নালন্দার তহবিল থেকে শুরু করে ডাচ ইংরেজদের ম্যানহাটনের বিনিময় একটা জায়ফল দ্বীপ পাওয়া এই সমস্ত জটিল ইতিহাস এই বইতে পাওয়া যায়, এবং
এই বই মানবজাতির ভাগ করা অতীতকে সমুদ্র কিভাবে রূপ দিয়েছে তার একটা পরিষ্কার চিত্র এই বইটতে তুলে ধরা হয়েছে।

এই বই থেকে কি কি জানতে পারবে?
ভারত মহাসাগর জলাশয় থেকেও বেশি কিছু ছিল, এটি ছিল প্রাচীন সভ্যতার একটা জীবন রেখা।
এই বইতে লেখক বলেছেন সুমাত্রার শ্রী বিজয়া রাজারা কিভাবে সেই বিখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় কে অর্থায়ন করে পৃথিবী বিখ্যাত করে তুলেছিল, এবং
এই বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে আসছো পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে ছেলেমেয়েরা। এইখান থেকে জানতে পারি কিভাবে ভারতের শিক্ষা সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।
এবং বহির্বিশ্বের মানুষের সাথে কিভাবে আমাদের ধারণাগুলোকে যুক্ত করেছিল।
বর্তমান সময়ের নীতি নির্ধারকদের জন্য এটা এমন একটা শিক্ষা যেটা দেখিয়ে দেয় জ্ঞান ভাগ করে নিলে সেইটা কিভাবে,
স্থায়ী সাংস্কৃতিক বন্ধন গড়ে তুলতে পারে।
একটা মসলা ব্যবসা বিশ্বকে একেবারে পাল্টে দিল?
ইন্দোনেশিয়ার রান দ্বীপ যেটাকে জায়ফলের আবাসস্থল বলা হয় সেখানে ম্যানহাটনের ডাচ দের সাথে ইংরেজ দের ব্যবসা, এবং
সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রন কি সাম্রাজ্য গুলোর উপর অধিক সময় ব্যয় করে ছিলো, সেই চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
সেই সময় মশলা কে শুধু রন্ধন সম্পর্কীয় বিলাসিতা বলতো না, মশলা ছিল ভূ রাজনৈতীক পরিবর্তনের বাহক।
এই বই একটা চিরন্তন সত্য কে তুলে ধরে সবার সামনে “আজকে যেটা তোমার কাছে মূল্যবান মনে হচ্ছে সেটা আগামী কাল গুরুত্ব হারাতে পারে”
তাই নেতাদের সব সময় অগ্রাধিকার পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে, না হলে অতীতে আটকে থাকতে হবে।
ইতিহাসের এক অসম্পূর্ণ যুদ্ধ?
আলেকজান্ডার দি গ্রেট বিয়াস নদীর তীরে এসে আরো ভারত এর দিকে অগ্রসর হতে চাইলে তাঁর সৈন্যরা পিছিয়ে আসে।
এরফলে আলেকজেন্ডার আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ভেস্তে যায়, এবং
ওই অঞ্চল আলেকজান্ডারের শাসনের হাত থেকে রক্ষা পায়, যেটা ওই অঞ্চলের উন্নতির সুযোগ করে দেয়।
এই বই পড়লে জানতে পারবে কীভাবে ইতিহাস কেবল দূরদর্শী ব্যাক্তি দের দ্বারা না বরং এর পিছনে সাধারণ মানুষের সম্মলিত ইচ্ছে শক্তি ও থাকে।
আর্য ও দ্রাবিড় জাতির দৃষ্টি কোন?
আর্য ও দ্রাবিড় বিভাজনের আখ্যান কে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন প্রাচীন ভারত কে জেনেটিক গলনাঙ্ক বলে আখ্যান দেন।
সরস্বতী নদী সম্পর্কে লেখকের মন্তব্য?
বর্তমান সময়ে শুষ্ক ঘাগর নদীকে অতীতের সরস্বতী নদীর সাথে তুলনা করেছে, এক্ষেত্রে লেখক বলেছেন সরস্বতীর বন্দনা করি স্রোত্র গুলি ভৌগলিক সময়ের তাৎপর্য নির্দেশ করে এবং
এর পাশাপাশি ভূগোল, পৌরাণিক কাহিনী , সভ্যতাকে একত্রে সংযুক্ত করে, আমাদের সামনে তুলে ধরে যে ল্যান্ডস্কেপ কিভাবে আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় কে প্রভাবিত করতে পারে।https://thebookscope.com/prakash-pariyenkar-new-book-the-bitter-fruit/
হিমালয় পর্বত সম্পর্কে আমরা যা জানতে পারি?
আমরা জানি লক্ষ লক্ষ বছর আগে ভারতীয় প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষের ফলে এই বিশাল হিমালয় পর্বতমালা সৃষ্টি হয়েছিল কিন্তু
তোমরা জানলে অবাক হবে পৃথিবীর অভ্যন্তরে সেই সংঘর্ষ আজও চলছে এবং পাহাড় গুলো প্রতিবছর ৫ মিলিমিটার করে নিজেদের উচ্চতা বাড়াচ্ছে।
লেখকের কথায় এই সব শৃঙ্গ গুলোতে পাওয়া সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্ম আমাদের প্রকৃতির গতিশীল শক্তি তুলে ধরে।
আলেকজান্ডারের পিছনে ফিরে যাওয়া?
সিন্ধু নদীর গতিপথ নিয়ে আলেকজান্ডার এর সেনা বাহিনীর মধ্যে ভুল ধারনা ছিলো আর সেটাই কাল হয় আলেকজান্ডার এর।
এরফলে আলেকজান্ডার এর সেনা বাহিনী ভুল করে বেলুচিস্তান এর এক মরুভূমির দীকে চলে যায়।
সেই মরুভূমি তেই মারা যায় কয়েক হাজার সেনা। এই ভুল থেকে বর্তমান নেতারা এই শিক্ষা নেওয়া উচিত যে “সাফল্য কেবল উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয় বরং পরিবেশের সীমাকে সম্মান করা বোঝায়” ।
শুধু তাই নয় আলেকজান্ডার পশ্চাদ সরণ আমাদেরকে বোঝায় যে “অনিচ্ছাকৃত পরিবর্তন কি ভাবে ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে”
এই বই থেকে পাওয়া স্বরনীয় উক্তি
ইতিহাস এক অপ্রত্যাশিত পরিণতিতে পূর্ণ ।

