Time management একটা আর্ট। কারন সময় কতটা মূল্যবান সেটা আমরা প্রত্যেকেই জানি, তাই Time manegment করতে জানা জীবনে অত্যন্ত জরুরি।
কথায় আছে জীবনে সব চলে গেলে ফিরে পাওয়া যায়,কিন্তু যদি সময় চলে যায় তাহলে সেটা ফিরে পাওয়া যায়না।
তাই জীবনে সময় এর গুরুত্ব যদি বুঝতে চাও, আর সময় কে যদি সঠিক ভাবে ম্যানেজ করতে চাও তাহলে এই বই ,
তোমাকে পড়তে হবে কারন, কোনো এক বিখ্যাত ব্যক্তি বলেছেন ” জীবন যতই ছোটো হোক না কেনো, সময় এর বরবাদী সেটাকে আরো ছোটো করে তোলে”
Dr Rekha vyas এর জীবন?
Dr rekha vyas পেশায় একজন ডাক্তার। ওনার জন্ম রাজস্থানে। ডাক্তারির পাশাপাশি উনি লেখালেখি তে ও বেশ নাম অর্জন করেছেন।
Time manejment এই বইটি ওনার লেখা সব বই গুলোর মধ্যে খুব উল্লেখযোগ্য একটা বই, এবং
এই বই ওনাকে একজন ভালো লেখিকা হিসেবে একটা ভালো পরিচিতি দিয়েছিল।

Time manegement এর অর্থ কি? এই বই এর সেরা কিছু পয়েন্ট তোমাদের সামনে তুলে ধরলাম?
Time management সম্পর্কে বলার আগে তোমাকে আভিরুপ নামের একটা ছেলের উদাহরন দিই।
অভিরুপ একটা কোম্পানি তে চাকরি করে। মাইনেও মোটামুটি পায়, কিন্তু চাকরি করার পাশাপাশি জিম করা, আর
YouTube এর জন্য ভিডিয়ো বানানো ওর passion বা শখ বলতে পারো। তাই তার পিছনে সময় দিতে হয়,আবার অফিস এর tress বা চাপ কমানোর জন্য ,
একটা ভালো ঘুমের প্রয়োজন। তাই ও ঠিক করে নিয়েছে সারাদিন এর 24 ঘণ্টা কে ও এই ভাবে ভাগ করে নেবে।
সকালে 6 টায় ঘুম থেকে উঠে প্রথমে প্রথম এক ঘন্টা বাথরুম করা, একটা ভালো বই এর কয়েকটা পাতা পড়া,
প্রাণায়াম করা,এর পর 7 টায় exersixe করতে যাওয়া, জিম এ গিয়ে exersize করে সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে আসা।
10 টার মধ্যে চান করে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে অফিস এর জন্য বেরিয়ে যাওয়া তারপর সাত টার মধ্যে অফিস,
থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত কনটেন্ট এর পিছনে সময় দিয়ে দশটায় ডিনার করে
11 টারসময় শুয়ে আবার সকাল 6 টায় উঠে পড়া। এই ভাবে অভিরূপ তার 24 ঘণ্টা সময় কে Time manegement এর বাক্সে বন্দি করে।
উপরের ঘটনা থেকে নিশ্চয় বুঝতে পারলে যে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে অভিরূপ কি ভাবে নিজের 24 ঘণ্টা সময়,
কে ম্যানেজ করলো। এবং এই সময় ম্যানেজ করাকেই Time mamejment বলেছেন Rekha Vyas।
আক্ষরিক অর্থে যাকে বলে সময় নষ্ট না করে সময় কে কাজে লাগানো, এদিক ওদিক করে আমরা অনেক সময় নষ্ট করে ফেলি,
তাই যতটা পারা যায় সময় নষ্ট না করে সময় কে কাজে লাগানো। তাহলে কথা না বাড়িয়ে চলো এই বই এর গভীরে ঢুকে
আমরা টাইম ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানবো। আর আমাদের জীবনে সময় এর মূল্যকে,
আরো ভালো বুঝতে শিখব।
Time mamejment বই এর প্রথম পয়েন্ট,
১ self and total quality management:
লেখিকা এখানে বলেছেন নিজেকে এবং সময় কে এমন ভাবে কাজে লাগাও যাতে আমরা আমাদের লক্ষ্য প্রাপ্তির জন্য একশো শতাংশ দিতে পারি।
এবং সময় এর মধ্যে নিজের কাজ শেষ করতে পারি। লেখিকার কথায় সময় ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে জেনে নিলেই বা পড়ে নিলেই,
সময় ব্যবস্থাপনা হয়ে পড়ে না এটা একটা নিয়ম আর অনুশাসন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ অবস্থা।
°যে ব্যক্তিরা জ্ঞান বা অজ্ঞান বসত তোমার সময় নষ্ট করে তাদের থেকে নিজেকে দূরে রাখো। কারন এরা তোমার লক্ষ ভ্রষ্ট করে,
মনে রাখবে মূলধন একত্রিত করা যেমন জরুরি তেমনি সময় নষ্ট ঠেকানো ততটাই জরুরী। এখানে লেখিকা লেখক “পবনচৌধুরীর” একটা,
সুন্দর উক্তি তুলে ধরেছেন “বলেছেন “জীবনে কখন হিংস্র রূপে আক্রমণ করতে আর কখনো নিজেকে শান্ত রাখতে হয় সেটা জানা খুব দরকার “
সময় এর স্রোতে ডুবে যাওয়ার পরিবর্তে সময় এর স্রোতে ভেসে থাকার কথা বলেন তিনি।
2.সময় থাকতে সময় এর ব্যবস্থাপনা
লেখিকা খুব সুন্দর একটা উদাহরণ দিয়েছেন এখানে,”দুই বন্ধু খালি পায়ে জঙ্গলের মধ্যে হাঁটছিল, ঠিক সেই সময় একটা ভাল্লুক তাদের দিকে এগিয়ে আসে,
আর সেটা দেখে এক বন্ধু তার হাতে থাকা স্পোর্টস শু পায়ে পড়তে শুরু করে, আর এই দেখে আরেক বন্ধু বলে”তুমি এই জুতোটা পড়ে কি ভাল্লুকের আগে দৌড়াতে পারবে”
তখন জুতো পরতে পরতে ওই বন্ধু বলল”ভাল্লুকের আগে হয়তো পারবো না কিন্তু তোমার আগে পারবো”|
এটাকেই বলে সময়ের আগে সময়ের ব্যবস্থাপনা। মানে এমন একটা কাজ যেটা তুমি আগেভাগেই করে রাখ, যাতে তোমাকে,
কোনো বিপদ ছুঁতে না পারে, যেমন তুমি যদি চাকরীজীবি হও তাহলে ইমারজেন্সি ফান্ড করে রাখা, চাকরি চলে গেলে সেই ফান্ড,
তোমাকে বাঁচিয়ে রাখে, নিজের পরিবার এর জন্য একটা ভালো টাকার Mediclaim করে রাখা যাতে ভবিষ্যতে হাসপাতাল এর বিল মেটাতে ,
তোমার ব্যাংক এর savings এ হাত দিতে না হয়, শুধু পরীক্ষার দুই তিন মাস আগে না পড়ে সারা বছর পড়া যাতে পরীক্ষার আগের,
রাতে tension না হয়, পরীক্ষা কেমন হবে, বা বেশি রাত জেগে পড়তে না হয় , তাড়াতাড়ি শুয়ে সকালে ফ্রেস মাইন্ড এ পরীক্ষা দিতে পারি,
লেখিকা এখানে “wiiliam শেক্সপিয়ার” এর একটা দামী কথা তুলে ধরেছেন,” যে সময় নষ্ট করে সময় তাকে একদিন নষ্ট করে দেয়”
3. Time manegement অভ্যাস তৈরী করবে কি ভাবে ?
এখানে লেখিকা বলেছেন”সময় এর কাজ সময় করা হয় সেটা যতোই মহৎ হোক না কেনো সেটার কোনো দাম থাকে না”
যেমন ধরো সকালে ফ্রেস মুড এ এক্সারসাইজ করলে তোমার যতটা লাভ হবে সেটা বিকেলে করলে ততোটা উপকার
তুমি কোনোদিনই পাবে না।, লেখিকা এর কথায় “অভ্যাস আমাদের না বরং আমরাই অভ্যাস এর দাস হয়ে যাই,
“যেমন তুমি যদি সব সময় যে কোনও পরিস্থিতি তে, সত্যি কথা বলা অভ্যাস করি তাহলে আমরা ওই সত্যিকথা বলার ই
দাস হয়ে যাব, ঠিক তেমনি আমরা যদি প্রতিদিন সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করি তাহলে শীত হোক বা বর্ষা,শরৎ হোক বা হেমন্ত সব ঋতুতে
আমাদের ঘুম এমনিই ভেঙে যাবে। সময় খুব মহৎ বস্তু?
4. সময় খুব মহৎ বস্তু?
লাল বাহাদুর শাস্ত্রী খুব দামী একটা কথা বলছেন উনি বলেছেন সময় সবাইকে একবার মহান হয়ে ওঠার সুযোগ দেয়,
কিন্তু সেই সুযোগটা কে কিভাবে কাজে লাগায় সেটা তার উপর ডিপেন্ড করে। এই কর্মপ্রধান সংসারে কর্ম ছাড়া
জীবনই হয় না। আমরা অনেকেই কর্ম করতে ভয় পাই, বা অলসতা দেখাই, তখন আমাদের জীবন নিরাশ ও ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে।
মনে রাখবে নিজের উপার্জন করে খাওয়া প্রবৃত্তি, অন্যের খাওয়া কেড়ে নেওয়াটা বিকৃতি, আর নিজের সাথে অন্যদের
খাওয়ানোকে প্রকৃতি মনে করি। কাজ করাটা আমাদের প্রত্যেক এর কর্তব্য, নিজের পাশাপাশি, আমাদের, অন্যদের জন্য ,
কাজ করা উচিত । যেমন আমরা যদি প্রকৃতির দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো গাছ ফল উৎপাদন করে নিজের,
জন্য না, নদী জল বহন করে নিজের জন্য না, সবই তোমার আমার জন্য কোনোটাই প্রকৃতি শুধু মাত্র নিজের জন্য করে না।
তোমার আমার জন্য করে। সংশয় আত্মা বিনশ্চিত বলতে লেখিকা বুঝিয়েছেন যে আমরা অনেক সময় মনের সংশয়
এর জন্য ভবিষ্যতের আইডিয়া কে নষ্ট করে ফেলি, তাই বেশি না ভেবে,”যা হবে দেখা যাবে”এটা ভেবে আমাদের সেই আইডিয়া নিয়ে ,
এগিয়ে যাওয়া উচিত। ফসল শুকিয়ে যাওয়ায় পর যেমন বর্ষা এসে কোনো লাভ নেই তেমনি সময় চলে যাওয়ায় পর শোক করে ও কোনো লাভ নেই।
Time manegement করার সময় , সময় নষ্ট করা ব্যক্তি দের থেকে দূরে থাকা খুব দরকার, হতে পারে সেই ব্যক্তি তোমার
কোনো বন্ধু, তোমার অফিস এর কোনো কর্মচারী, বা হতে পারে তোমার মা বাবা, এরা অনেক সময় না জেনে বুঝেও
তোমার সময় নষ্ট করে দিতে পারে। তাই নিজের time manegement খারাপ হবে, তাই নিজে বুঝে নিয়ে তোমার
গুরুত্ব পূর্ণ সময়ে এদের থেকে নিজেকে যতটা পারো এড়িয়ে চলো।
5.Time manegement-কাজের মূল্যায়নকন করতে শেখা-
কাজের মূল্যায়ন আমাদের কোন কাজগুলো প্রয়োজনীয় আর কোনগুলো অপ্রয়োজনীয় সেগুলোকে চেনাতে সাহায্য করে, এর ফলে আমরা কাজের,
মূল্যায়নের পাশাপাশি নিজেদের অমূল্যায়ন করে থাকে এবং ফালতু কাজের সময় নষ্ট কম করি। লেখিকার কথায় যে কোন কাজ শুরু করার আগে,
আমি কাজটা কেন শুরু করছি, এই কাজ থেকে আমি কি পেতে পারি আমার কি লাভ বা ক্ষতি হতে পারে এই সব কিছু,
জেনে শুরু করা উচিত।
Time manegement বলতে পূর্ব পরিকল্পনা বা pre planing বলতে লেখিকা একটা সাধারণ জিনিস বুঝিয়েছেন, যেটা হয়তো,
আমরা সবাই করে থাকি বিশেষ করে ঘুড়তে যাওয়ার সময়। ঘুড়তে যাওয়ার আগে যেমন আমরা নিজেরা বা tour operator কে দিয়ে,
কোথায় যাবো, কোথায় ঘুরবো, কোন হোটেলে এ থাকবো এই সব কিছু। নাহলে আমরা জানি হুট করে বেরিয়ে পড়লে আমরা বিপদে পড়তে পারি।
ঠিক তেমনই নতুন ব্যবসা, নতুন কলেজ এ ভর্তি হওয়া, নতুন চাকরি তে যাওয়া এই সব ক্ষেত্রেই আমাদের একটা pre planning করতে হয়,
না হলে হুট করে deseion নিলে আমাদের পস্তাতে হবে। তবে এই বই এর সব থেকে গুরুত্বপুর্ণ যায়গা হলো এটা,
6.-কাজ করার জন্য সময় বের করা – এই চ্যাপ্টার এ jorge barnad shaw এর উক্তি তুলে নিয়ে বলেছেন “সময় নেই” , এই কথা অজুহাত ছাড়া আর কিছুই না,
আদতে এই ধরনের কথা যারা বলে তারা অলস ছাড়া আর কিছুই না, সময় সবার কাছে ২৪ ঘণ্টা। আর গ্রামের কৃষক থেকে ধনী সব,
ব্যক্তির কাছেই এই 24 ঘণ্টা, তাঁরা এই সময় কেই ম্যানেজ করে চলে। এই সময় এর মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
তাই আজকের কাজ এক্ষুনি করে নেওয়া উচিত। সময় আবিষ্কার করা নিজেকে আবিষ্কার করার মতো। আমরা
নিজেদের কে আরোও ভালো ভাবে বুঝতে পারি।
Time manegement- সময় এর সন্তলিত ব্যবস্থাপনা-লেখিকা মূলত এখানে সময়ের কাজটা সময় করার কথাই বলেছে। উদাহরণ দিয়ে বলেছেন দিনের বেলা যখন রোদ ঝলমলে,
আবহাওয়া থাকার কথা তখন যদি আকাশ মেঘলা করে তাহলে আমাদের মন খারাপ হয়ে যায় আসলে সেই সময়টা আমরা রোদ ঝলমলে,
আকাশ দেখতেই অভ্যস্ত, এটাকে বলে সূর্যের অসন্তলিত ব্যবস্থাপনা, বর্তমানে সময় ও আমরা আমাদের সময়ের অসন্তলিত ব্যবস্থাপনার জন্য
আমাদের প্রিয় মানুষটাকে সময় দিতে পারি না, তাই অপর দিকের মানুষটা অনেক সময় ভুল বোঝে, এই জন্য লেখিকা আমাদের জীবনকে,
এডজাস্ট করে চলার কথা বলেছেন, তাই আমাদের সময় কে সব সময় ম্যানেজ করে সব কিছুর পিছনে সমান ভাবে দেওয়া উচিৎ।
আমরা চাইলেই সময় এর সময় এর সন্তোলিত ব্যাবস্থাপনা প্রকৃতির থেকে শিখতে পারি।
যেমন গ্রীষ্মের পরা বর্ষা আশে, বর্ষার পড়ে শরৎ, আর তার পরে হেমন্ত, আবার ঠিক যেমন বিভিন্ন মরশুমে নানা ফুল, শাক, সবজি হয়
তুমি শত চেস্টা করলেও ওই মরশুমের আগে সেই বিশেষ ফল বা সবজি টা ফলাতে পারবে না,
তাই আমাদের পরিশ্রম করে প্রাইম টাইম এ কাজ করে যেতে হয়। সফলতা এমনি আমাদের সামনে এসে ধরা দেয়।
এই প্রাইম টাইম বলতে লেখিকা সেই সময়টাকে বুঝিয়েছেন যে সময়টাকে আমরা কাজ করার মোক্ষম সময় বলি
হতে পারে সেটা একদম সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে, বা বিকেল বেলা একটু খেলে ধুলে এসে বিশ্রাম নিয়ে। তার কথায়
এই সময়টা চলে গেলে আর কাজ করার আসল এনার্জি থাকে না। তবে জীবনে সফলতা পেতে অনেক সময়
লেটেন্ট লার্নিং ও ভালোভাবে কাজ করে।
Latent lerning কি?
একটা উদাহরন দিলে এটা তোমার কাছে আরো পরিষ্কার হবে।১৯৭০ সালে bruce lee নিজেই নিজেকে একটা চিঠি দিয়ে ছিলেন, এবং,
তাতে লিখেছিলেন যে “১৯৮০ সালের মধ্যে তিনি পৃথিবীর একজন বিখ্যাত অভিনেতা হবেনা” সত্যি কথা বলতে তিনি সেটা হয়েও ছিলেন ।
১৯৭৫ সালে যখন তার সিনেমা “এন্টার the dragon”মুক্তি পেতেই উনি সফলতার শিখরে পৌছে যান।
চলে যাওয়া সময়, সুযোগ ফিরে আসে না ?
Time manegement বইতে পড়া rekha vyas এর লেখা আরও একটা সেরা উক্তি। লেখিকা বলেছেন সুযোগ সবার সামনেই আসে, কেউ সেই সুযোগ কে চীনে নেয়,
আবার কেউ আরো ভালো সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। তাই যে ব্যক্তি সুযোগ কে চিনে নেন আর সেটার ব্যবহার করতে জানেন,
তাকে কাজের জন্য আর নিরর্থক ঘুরে বেড়াতে হয় না। তাই সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তিরা ব্যর্থতাকেও সফলতার সুমন শক্তি ,
হিসেবে দেখেন যেমন ধরো প্রকৃতি পাখিদের খাওয়ার জন্য চারিদিকে এত গাছ আর ফলমূল দিয়েছে,
তাই পাখির যখন খিদে পায় সে ওই গাছের ফলের কাছে যায়, গাছের ফল কিন্তু পাখির কাছে আসে না ।
সময় এলে:
আমরা অনেকেই ভাবি সময় এলে হবে, লেখিকার কথায় সঠিক সময় এর জন্য অপেক্ষা করতে থাকা ব্যাক্তিরা সঠিক সময় এ নিজেকে
বঞ্চিত মনে করতে থাকেন।
সময় নেই:
সময় নেই বলে আপনি যদি কোনো কাজ এড়িয়ে যান তাহলে মনে রাখবেন আপনি নিজেকে ফাঁকি দিচ্ছেন। লেখিকা এখানে সময়,
নেই বলেও এমন অনেক কাজ আছে যেগুলো অমরা মুহূর্তের মধ্যে করে নিতে পারি,
° একদম সকালে যদি খবরের কাগজ পড়ার সময় না পান তাহলে অফিস যাওয়ার পথে ট্রেন কিম্বা বাস এ পড়ে নিতে পারো।
°অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাজার করে নিয়ে আসলে ছুটির দিন টা আরামে বাড়ীতে কাটাতে পারেন।
খারাপ সময়:
আমরা অনেকেই বলি আমাদের এখন খারাপ সময় চলছে, লেখিকা এই নাম তার খুব সুন্দর একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন, উনি বলেছেন
সময় খারাপ হয় না আমরা আমাদের অক্ষমতাকে, আর দোষকে সময়ের উপর চাপিয়ে দিই।
যেমন একজন কৃষক সময়মতো বীজ না বুনে, জল না দিয়ে, কিন্তু পরে অন্যান্য কৃষকদের ভালো ফসল হতে দেখে বলল যে,
আমার সময়টাই খারাপ তাই আমার ভালো ফসল হয়নি।
কোন সুযোগই ছোট হয় না:
লেখিকা বলেছেন সুযোগকে কখনো ছোট বা বড় হিসেবে দেখাই উচিত না। তোমার জীবনের একটা ছোট সুযোগও
তোমার জীবনে একটা বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।
Time table:
সারাদিনের একটা টাইম টেবিল তৈরী করুন। মানে আপনি কখন কোন কাজ টা করবেন সেইটা আর কি,
এই টাইম টেবিল বানানোর সব থেকে বেশী সুবিধা হলো আপনি কোন কাজটা কোন সময় এর মধ্যে করছেন,
আর কোন কাজটা করতে কত সময় লাগছে সেটা জানতে পারবেন। এতে আপনার কাজ যেমন তাড়াতাড়ি শেষ করতে পারবেন
ঠিক তেমনি সারাদিন এ সময় কতটা নষ্ট করেছেন সেটাও বুঝতে পারবেন। তাই একটা time table বানিয়ে নিন।
সময় এর সাধনা কি?
এটা অনেকটা দ্রুত গতিতে ছুটে চলা একটা ঘোড়াকে কন্ট্রোল করার মত। তাই অতিরিক্ত চিন্তা করে সময় নষ্ট করবেন না,
কোন কাজ শুরু করার আগে চিন্তা হওয়াটা স্বাভাবিক কিন্তু আপনি চিন্তাতেই ডুবে থাকলেন, তাহলে কাজ থেকে শুরু করা হলো না,
ব্যাপারটা এরকম নতুন কোথাও ঘুরতে গেলে অচেনা জায়গা হিসেবে একটা চিন্তা থাকে কিন্তু আপনি যদি সেই চিন্তাই সবসময় করতে থাকেন তাহলে আপনার আর ঘুরতে যাওয়া হবে না।
সময়ের আগে:
সময়ের আগে চালাব ব্যক্তিরা ভীষণ টু দ্য পয়েন্ট কথা বলে। তারা ভালো নিরীক্ষা হয় এবং তাদের কথা গণিতের সমাধান এর মতোই প্রমাণিত হয়।
Time manegement কি বিদেশি সংস্কৃতি?
লেখিকার কথা এটা কখনোই বিদেশি সংস্কৃতি না। ইতিহাস ঘাটতে জানতে পারবে আমাদের অতীতের ঋষি ও মনীষীরা সময় সম্পর্কে কতটা,
Punctual ছিলেন।
তাই Time manegement করতে না পারা ব্যক্তিরা, সবসময় আজ করবো ,কাল করবো করেন আর তাই তাদের কাজ শেষে তো অনেক দেরি হয়ে যায়।
একবার ভেবে দেখো ঋষি দয়ানন্দ স্বামী বিবেকানন্দের মত ব্যক্তিরা খুব কম সময় পৃথিবীতে থেকে গেছে কিন্তু এই কম সময়ের মধ্যেই
তাদের কর্ম দিয়ে এই সমাজে এই পৃথিবীর বুকে তাদের ছাপ রেখে গেছে এবং সেই জন্য এখনো তাদের আমরা স্মরণ করি।
অন্তিম সময়ে কাজ:
প্রেমের আর সময় এই দুটো জিনিস কে গোটা বিশ্বে কেনা যায়না,
আমরা অনেক সময় অন্তিম সময় কাজ শেষ করার কথা ভাবি, কিন্তু সেটা বোকামো কাজ প্রথম থেকে একটু একটু,
করে শেষ করে রাখতে হয়। নাহলে বিপদে পড়তে হয় তখন মনে হয় যেন সময় কম পড়েছে।
সব কিছুই ক্ষুন ও ভঙ্গুর:
এখানে লেখিকা উদাহরন দিয়ে বলেছেন অনেক ছাত্রছাত্রী যখন একটা জিনিস বারবার পড়ে মনে রাখতে পারে না তখন,
বাধ্য হয়ে বলে যে মনে যখন থাকছে না তাহলে পড়ার কি দরকার, এই ধরনের চিন্তাভাবনা খুবই খারাপ কারণ
আমরা পড়ার পর হয়তো ভুলে যাই কিন্তু ওই যে পড়লাম আমাদের ব্রেন সেই জিনিসটা কি ঠিক স্টোর করে নেয়, আর যখন আমাদের মনে করার কথা
তখন সেটা ঠিকই আমাদের মনে করিয়ে দেয়।
লেখিকা এখানে একটা খুব সুন্দর উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন,
রাম তার প্রিয় বন্ধু লক্ষণ কে জিজ্ঞেস করলো “তুমি কোন কাজ না করে, সবসময় শুয়ে বসে সময় কাটিয়ে দাও কেন,”তখন সেই লক্ষণ বললো” সময় যখন এমনি কেটে যাচ্ছে, তাহলে কাজ করার কি দরকার “
Rekha vyas বলছেন এখানে লক্ষ্মণ যেটা করছে সেটা হইছে “প্রথমে জীবন কে আরাম করে কাটানো, আর আগে জীবন কে ,
উপলব্ধি মনে করে তুলে তারপর আরাম করা এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য আছে ” যেমন ভালো খাবার খেয়ে তৃপ্ত হওয়া,
আর খাবার এর বিকল্প হিসেবে কোনো অষুধ খেয়ে তৃপ্ত হওয়া এর মধ্যে যতটা পার্থক্য থাকে।