“in chembers” by Talha Abdul Rahman এর লেখা এই বই আইন ছাত্র দের জন্য একটা মাষ্টারপিস। কারণ লেখক এর উদ্দেশ্য একটাই
সফল উকিলদের চেম্বার প্র্যাকটিসের গোপনীয় পরামর্শ দেওয়া, যাতে তারা একজন সফল উকিল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
লেখক এর পরিচিতি?
Mr Talha Abdul Rahman law নিয়ে পড়াশুনা করেছেন Nalsar university of law থেকে। সেখান তিনি বেশ কয়েকবার,Gold medel ও পাপ্ত করেন, এবং
এরপর ২০০৮ ও ২০০৯ সালে শেভেনিং স্কলার হিসেবে পূর্ণ বৃত্তিতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অফ সিভিল law এর ডিগ্রী প্রাপ্ত করেন।
Talha Abdul Rahman এর পেশা?
Rahaman ২০০৮ সালে বার কাউন্সিল এ তালিকা ভুক্ত হন। এরপর ২০১৭ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এ একজন বিশিষ্ট
এডভোকেট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বর্তমান সময়ে তিনি নিয়মিত ভাবে সুপ্রিম কোর্ট, দিল্লি হাইকোর্ট, এনসিএলটি তে উপস্থিত হন।
অক্সফোর্ড থেকে ফেরার পর Talha Abdul rahaman এজেডবি অ্যান্ড পার্টনার্স এর বিরোধ নিষ্পত্তি দলে আইন পেশাই নিযুক্ত হন।
এরপরে বেসরকারি সংস্থা ও সরকার এর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক বিরোধে বেশ কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানি এর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
In chembers review|(বাংলা বিশ্লেষণ)
গ্রিসের এথেন্স থেকে শুরু করে এই সময় পর্যন্ত আইন পেশাকে সর্বদাই এমন একটা পেশা হিসেবে উপস্থাপন
করা হয়েছে যে পেশায় দরকার মেধা, নৈতিক সাহস, এবং ন্যায়বিচার করার বোধ। এবং
এই জন্যই talha Abdul Rahaman এর লেখা এই বই আইন শিক্ষা ও পেশাগত জীবনের মধ্যের পার্থক্য কে সুন্দর করে তুলে ধরে।
এই বই মূলত আইনের সেই চ্যলেঞ্জ গুলোকে তুলে ধরে যেগুলো আইনের শিক্ষার্থী, ইন্টার্ন ও তরুণ উকিল রা
তাঁদের ওকালতির প্রথম জীবনে সম্মুখীন হয়। এই বই তরুণ উকিল দের শেখায় যে আইন কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া ,
কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান এটা একটা মানুষের জীবনের রূপান্তরকারী যাত্রা। এই বই তরুণ উকিল দের শিক্ষাগত নির্দেশনা ও প্রয়োগিক আইনশাস্ত্রের মধ্যকার পার্থক্য
বুঝিয়ে দেয়। নিজের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে রহমান কার্যপ্রণালীগত বিচক্ষণতা , নৈতিক কর্তব্য, এবং কৌশলগত
ওকালতির জটিলতা ব্যাখ্যা করেছেন। এই বইতে rahaman আইন চর্চা কে সুফি শিক্ষা পদ্ধতির সাথে তুলনা করেছেন, যে
শিক্ষা পদ্ধতিতে প্রারম্ভিক নির্দেশনা ও নিবিড় পরামর্শ দানের মাধ্যমে জ্ঞান প্রদান করা হয়। তিনি পেশাগত দক্ষতা তৈরিতে,
জ্যৈষ্ঠ ও কনিষ্ঠ সম্পর্কের গতিশীলতা এর উপর জোর দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটের উপর ভিত্তি করে এই বইটা
আইন জীবনকে সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব রকমের নৈতিক ও বৌদ্ধিক গুণাবলীর
পালন করার প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা ও দার্শনিক প্রতিফলন তরুণ উকিলদের সামনে তুলে ধরেছে।
এই বইয়ের অধ্যায় ও সেখানকার আলোচিত বিষয়?
এই বইটাতে ২১ টা অধ্যায় আছে। এবং প্রতিটা অধ্যায়ে আলাদা আলাদা করে আইন সম্পর্কিত ভিন্ন কিন্তু পরস্পর সম্পর্কিত নানা দিক,
তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম দুটি অধ্যায় যার মধ্যে প্রথম অধ্যায় হচ্ছে আইনকে পেশা হিসেবে নিয়ে তার দিকে অগ্রসর হওয়া ও,
“আইন পেশার পরিচিতি” এর বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে এবং এই চ্যাপ্টারের মূল বার্তা হল একজন সফল আইনজীবী,
হিসেবে তোমার মন খোলা রাখার ও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা।rahaman এটাকে “আইন পেশার উত্তরণ পর্ব” বলেছেন ।
এর সাথে এটাও বলেছে এই পর্যায়কে অতিক্রম করার প্রয়োজনীয়তা। বই এর ভূমিকা অংশে দক্ষতা ও জ্ঞানের
মিথজীবির সম্পর্কের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভূমিকার অধ্যায় গুলোতে পেশাগত উন্নয়নের মডেল হিসেবে এবিসি প্যারাডাইম এর সৃষ্টি করা হয়েছে।
এছাড়াও এখানে আইন কে বিজ্ঞান ও শিল্প উভয় রূপেই দেখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এরপরে তৃতীয় অধ্যায় থেকে ষষ্ঠ অধ্যায় পর্যন্ত আইনের,
কারিগরি দক্ষতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে যেমন মামলার নথি ব্যাবস্থাপনা, আইন গ্রন্থাগারের ব্যাবহার, গবেষণা, নিজের ক্লায়েন্ট/মক্কেলের,
সাথে যোগাযোগ, দল বেঁধে কাজ, সমালোচনা মূলক চিন্তাভাবনা, মৌলিক দক্ষতা অর্জন এই সব।
Rahaman কোর্ট কেস এর সংক্ষিপ্তসার ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল উপকরণ ও দ্রুতপঠন গোছানোর কার্যকর পদ্ধতি, এবং
এসসিসি অনলাইনের মত টুল ব্যবহারের পদ্ধতি দেখিয়েছেন।।
এই বইয়ের অধ্যায় গুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
এই বই এর অধ্যায় গুলো এমন সব তথ্যকে কে কাঠামোগত ভাবে নথিভুক্ত করে যে যা প্রায়শই পরামর্শদানের মাধ্যমে
আনুষ্ঠানিক ভাবে আদান প্রদান হয় এবং সে গুলোকে প্রথম প্রজন্মের আইনজীবী দের কাছে সহজ লভ্য করে তোলে এবং
এরপরে সপ্তম থেকে দশম অধ্যায়ে পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা কে পেশাগত নীতিশাস্ত্র, আইনজীবী- মক্কেল সম্পর্ক এবং
আইন ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী নিয়ে কথা বলা হয়েছে। এরপরের অধ্যায়গুলোতে আদালতের অন্যান্য কার্যপ্রণালীর ব্যাখ্যা , আদালত ও কর্মীদের মধ্যে ,
পারস্পরিক সম্পর্ক, নথি দাখিলের পদ্ধতি, এবং আইনের কাগজপত্র রচনার বিষয়ে গভীর ভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
এছাড়াও উচ্চাকাঙ্ক্ষী আইনজীবীদের লেখক rahaman এমন কিছু কৌশলগত উপায়ে বলেছেন যেগুলো তাদের নিজস্ব আইন সংস্থা ও চেম্বারের,
কার্যপ্রণালী প্রশাসনিক ও আন্তব্যাক্তিক চাহিদা বা প্রয়োজন গুলোকে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে এবং এই পদ্ধতির মাধ্যমে
Rahaman বুঝিয়েছেনদের সফল উকিল হতে গেলে কার্যকর আইন চর্চার জন্য কারিগরি দক্ষতা এবং প্রখর নৈতিক সচেতনতা এই দুই এর সমন্বয় অবশ্যম্ভাবিক।
বইটিতে প্ররোচনামূলক দক্ষতার পাশাপাশি ওকালতি, যৌক্তিক গঠন, আদালতের প্রশিক্ষণের উপর ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে।
জ্ঞানের প্রচলিত পেশাগত ক্ষেত্র গুলোর পাশাপাশি বইটি আইন পেশায় ব্যক্তিগত উপস্থাপনা , প্রযুক্তিগত দক্ষতা, এবং কৌশলগত পরিকল্পনা
উপর জোর দিয়েছে। এছাড়াও rahaman নৈতিক বিচারের ইচ্ছা , চরিত্রের শক্তি, এবং বৌদ্ধিক শৃঙ্খলা উপর জোরদেন।
সমালোচনা মূলক ও সামাজিক দক্ষতা বিকাশের জন্য পদ্ধতিগত সুপারিশ প্রদান করেন। Rahaman এর কথায় একজন সফল
উকিল হয়ে উঠতে গেলে এই ধরনের জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। এই বই একজন উকিলকে তার পেশার অখন্ডতা এবং শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার জন্য
প্রয়োজনীয় বৌদ্ধিক ও মানসিক দক্ষতা দিয়ে সজ্জিত করে। এই বইয়ের সব থেকে প্রধান স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো সেইসব অব্যক্ত পেশাগত তথ্যকে ,
প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায় যেটা সাধারণত জ্যৈষ্ঠ ও কনিষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আদান-প্রদান হয়ে থাকে।
https://thebookscope.com/?p=1146
এই বই নিয়ে আমার মতামত?
একাডেমিক ভাষ্য ও আত্মজীবনীমূলক ভাষ্যের সমন্বয় Rahaman একাডেমিক ভাষ্য ও আত্মজীবনীমূলক ভাষ্যের মাধ্যমে ,
তার পাঠকদের এমন একটা বই উপহার দিয়েছেন যা অনুপ্রেরণার এর পাশাপাশি পথপ্রদর্শক বন্ধু হিসেবে কাজ করে।
এটি বিশেষত আইন, শিক্ষার্থী, এবং নবীন আইনজীবীদের জন্য বিশেষ উপযোগী। এই বইয়ের মাধ্যমে নবীন ও তরুণ আইনজীবীরা
যে শিক্ষা, এবং তাদের প্রেশার উপর তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কাঠামো লাভ করে সেটা তাদের আইন পেশায় সফলতা আনতে সাহায্য করবে।
এই বইয়ের নেগেটিভ কিছু দিক?
আর পাঁচটা বই এর মতো এই বই এর কিছু নেগেটিভ দিক আছে। লেখক Rahaman এর আইনি প্রযুক্তি, এবং
উকিলদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে আরো বিস্তৃত ও নিখুঁত ভানে ফুটিয়ে তোলা উচিত ছিল।
Rahaman এর এই বই একটা ব্যাবহারিক নির্দেশিকাই নয় একটা দার্শনিক অনুসন্ধান যেটা যে কোনো ধরনের ন্যায় ,
বুদ্ধিবাদ ও নৈতিক সততার প্রতি নিবেদিত। তাই ভবিষ্যতের আইনজীবীদের জন্য এই বই একটা অপরিহার্য জিনিস,
কারণ আইন পেশাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ ও জটিল পেশা হিসেবে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও বাস্তব কিছু শিক্ষা দেয়।