ফেলুদা ব্যোমকেশ পড়েছো অথচ ডিটেকটিভ (detective) উপন্যাসিক আগাথা ক্রিস্টি এর নাম শোনেনি তা হতেই পারে না,
তাঁর সৃষ্টি করা ditective চরিত্র এরকুল পোয়ারো জায়গা তো আরেক ডিটেকটিভ শার্লক হোমসের ঠিক পরেই।
ভাবতেও অবাক লাগে একজন নারী হয়ে এরকুল পোয়ারো এর মত লম্বা চওড়া একজন পুরুষ কে কি সুন্দর ditective হিসেবে
তুলে ধরেছিলেন তিনি। শুধু পূরুষ কেন একজন বৃদ্ধা যে গোবিন্দা হতে পারে সেটাও মিস মার্পেল কে তৈরি করে প্রমাণ করে দিয়েছিলেন ক্রিস্টি।
গোয়েন্দা মানেই হলো কখন মাগজাস্ত্র, আর হাতের অস্ত্রর সঠিক ব্যবহার। কখন নিজের বুদ্ধি কে কাজে লাগাতে হবে আর কখন হাত চালাতে হবে, কখন বন্দুক তক করতে হবে সেটা ডিটেকটিভরা ভালই জানে।
তাঁদের বুদ্ধির জোরের কাছে হার মেনেছে সব বড় বড় লোকেরা। চলো তাহলে সব কথা ছেড়ে এবার যাওয়া যাক ditective উপন্যাসিক এর জীবন কাহিনী তে।
আগাথা ক্রিস্টি এর সৃষ্টি ditective চরিত্র?
গোয়েন্দা মানেই তো আমাদের সামনে আসে লম্বা চওড়া সুঠাম পূরুষ এর কল্পনা, কিন্তু
আমাদের ঠাকুমা, দিদার মত রূপকথার গল্প শোনানো কেউ যে গোয়েন্দা হতে পারে তা আমাদের কল্পনা তেও আসবে না,
এই রকম অদ্ভুত চিন্তা এসেছিল আগাথা ক্রিস্ট্রি এর মাথায়, তাই জন্যই তো আমরা পেয়েছি মিস মার্পেল কে।
মিস মার্পেল । যে একজন লাঠি হাতে টুক টুক করে চলা তোমার আমার ঘরের ঠাকুমা/দিদার মত একজন বৃদ্ধাকে।
ষাটঊর্ধ এই বৃদ্ধা থাকেন সেন্ট মেরি গ্রামে। এনার অসাধারণ কর্মের জন্য এনাকে স্মরণ করেন স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড এর বড় বড় কর্তারা।
Source: Goodreads https://share.google/ZbHRVv2ViClKBEvD1
শুধু পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, ক্ষুরধার বুদ্ধি, আর নিজেরা অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগিয়ে নিমেষেই সমাধান করে ফেলেন জটিল সব রহস্য।
মিস মার্পেল এর পাশাপশি আগাথা ক্রিস্টি সৃষ্টি করেছেন বেলজিয়াম ডিটেকটিভ এরকুল পোয়ারো। যার জায়গা শার্লক হোমস এর ঠিক পরে,
তিনিই বোধ হয় এক মাত্র গোয়েন্দা যার বই হয়েছে একাধিক ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। ইরকুল পোয়ারো কে নিয়ে লেখা ক্রিস্টির সব কটি বই সমান ভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বিশ্ব জুড়ে।
সাধারণত কোন detective উপন্যাসিক কে আমরা চিনি তাদের সৃষ্টি কোনো চরিত্র কে দিয়ে। যেমন শরবিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় কে ব্যোমকেশের জন্য, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় কে টেনিদার জন্য
আর আমি অগাথা ক্রিস্টি কে চিনেছি এর্কুল পোয়ারো এর জন্য।গিনিস ওয়ার্ল্ড এর হিসেবে বই বিক্রির রেকর্ডে শেক্সপিয়ার, আর j k Rowling এর পরেই ক্রিস্টি এর স্থান
দুই বিলিয়ন এর বেশি বই এর কপি তার বিক্রি হয়েছে গোটা পৃথিবী জুড়ে।
ডিটেক্টিভ আগাথা ক্রিস্টি এর ব্যক্তিগত জীবন?
দেখো এই রকম রহস্য,ditective গল্প যারা লেখেন তাদের জীবনে উঁকি মারলেই দেখতে হবে তাদের অধিকাংশের জীবন অ্যাডভেঞ্চার, রসক বিহীন।
ঠিক এর উল্টোটাই ছিল আগাথা ক্রিস্টি এর জীবন। তার আর্কিওলজিস্ট স্বামীর হাত ধরে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন ইরাক মিশর সিরিয়া প্রত্নতাত্ত্বিক সব জায়গায়।
লেখার পাশাপাশি দিনের বাকিটা সময় নিজের স্বামী ও তার কর্মচারীদের সাথে পুরোদস্তুর প্রত্নতত্ত্ব দলের সদস্য হয়ে নেমে পড়তেন।
সেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এর ছবি তোলার পাশাপাশি, প্রাচীন মাটির তৈরি নানা জিনিসপত্র সংরক্ষণ করা মত কাজ করতেন ।
তার কাজের অভিজ্ঞতা তিনি লিখে গেছেন মধ্যপ্রাচ্যের পটভূমিতে লেখা নানা উপন্যাসের মধ্যে।
Detective ঔপন্যাসিক ক্রিস্টির যাত্রা যেভাবে শুরু হল?
ক্রিস্টি যখন লিখতে শুরু করেন তখন সবেমাত্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে। গোটা ব্রিটেন জুড়ে অভিবাসীদের ভিড়।
ব্রিটিশটা এমনিতেই একটু অন্যদের থেকে নিজেদের আলাদা চোখে দেখে, তার পাশের দেশগুলোর সাথে একটু রেষারেষি, সংস্কার আর জাতিবিদ্বেষ তো আছেই কারণ
জাতি হিসেবে ব্রিটিশরা চিরকালই একটু নিজেদের উঁচু জায়গায় রেখে এসেছে। তাই বেলজিয়াম থেকে ফরাসি সব ধরনের জাতিদের মানুষদের ঠাই দিলেও
তাদের ভেতর থেকে যেন একদমই আপন করে নিতে পারেন নি ব্রিটিশরা। প্রথম জীবনে ক্রিস্টি হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক
নার্সের কাজ করতেন। আর অবসর সময় লিখবেন আর সেই লেখা পাঠাতে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কিন্তু তা রিজেক্ট করে দিত সবাই।
এরপরেট সাহস করে লিখেই ফেললেন একটা ডিটেকটিভ উপন্যাস, আর চলে গেলেন একটা প্রকাশক সংস্থায়।
প্রকাশক এর লেখাটা পছন্দ হলেও গল্পের শেষটা একটু পরিবর্তন করতে চাইলে ক্রিস্টি আপত্তি করলেন না।
সেই প্রথম আগাথা ক্রিস্টি লেখা বেরোলো। সেই মানুষ পরিচিত এরকুল পোয়ারো এর সাথে। নার্স হিসেবে কাজ করার সময় ,https://share.google/P3OIX7uSvV6uogiwj
এক বেলজিয়াম সৈনিক এর সাথে আলাপ হয়ে ছিল তার, সেই সৈনিক এর নামেই রেখেছিলেন তার গোয়েন্দা চরিত্রের নাম।
এরপরে তার শেষ উপন্যাস যখন তিনি লিখছেন তখন টেমস নদী দিয়ে বয়ে গেছে অনেক জল। ৫৬ বছর বয়সে ১৯৭৩ সালে,
তিনি যখন “পস্টার্ন অফ ফেট”লিখছেন তখন তো ঝুলিতে আছে ৬৫ টা উপন্যাস এবং অসংখ্য ছোট গল্পের সম্ভার।
আর “ম্যারি ওয়েস্টম্যাকট”ছদ্মনামে আছে আরো ছয়টি উপন্যাস। এরমধ্যে হয়ে গেছে আর একটা বিশ্বযুদ্ধ , ব্রিটিশদের বিশাল সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে।
শ্রেণী ব্যবস্থা ও রাজতন্ত্রের পতন ঘটতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে। আধুনিকতার ছোঁয়া লেগে পৃথিবীটা যেন বেশ অস্থির আর নড়বরে হয়ে উঠেছে।
নিত্য নতুন প্রযুক্তি এসেছে। মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তনে এসেছে আর অগাথা ক্রিস্টিও নিজের লেখার মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে ন।
তার গল্পের চরিত্র আর তার detective গল্পের মোড় ও থেমে থাকেনি সেখানেও পরিবর্তন এসেছে।
তার সবথেকেdetective হিট চরিত্র গুলোর মধ্যে এরকুল পোয়ার ও মিস মারপেল হিট করলেও টমি আর টুপেন্স
সেই ভাবে পরিচিতি পায়নি। তাদের নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে লিখেছিলেন N আর M। বইটার বিশ্বাসযোগ্য তো এতটাই ছিল যে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার
সন্দেহভাজনের তালিকায় উঠে গেছিল এই উপন্যাসিকের নাম।
ডিটেকটিভ খ্রিস্টির জীবনে অপ্রীতিকর ঘটনা?
একবার লিখিকা একটা চিঠি লিখে রীতিমতো নিরুদ্দেশ হয়ে যান। ব্যাপারটা এতটাই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায় যে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও খবর যায়।
সেই চিঠিতে তিনি একরকম ইঙ্গিত দেওয়ার মতই লিখে গেছিলেন ইয়র্ক শ্যায়ারের কথা। বেশ কয়েকদিন খোঁজাখুঁজির পর
নিউ ল্যান্ডস কর্নারের একটা পিকনিক স্পটে তার গাড়ি দেখতে পাওয়া যায় এবং গাড়ির মধ্যে পাওয়া যায় তার মেয়াদোত্তীর্ণ ড্রাইভিং লাইসেন্স , ও তার জামা কাপড়।
তাকে খুঁজতে লেগে পড়েন আরো দুই বিখ্যাত detective (গোয়েন্দা) উপন্যাসের লেখক আর্থার কোনাল ডায়াল, ও ডরোথি এল সায়ার্স।
এছাড়াও ছিলেন হাজারখানেক পুলিশকর্মী ১৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক, এমনকি উড়োজাহাজও । দুটো বিখ্যাত সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ডেইলি মিররে ,
তার নিখোজের বিজ্ঞাপন দিয়ে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এতকিছু করার পর শেষমেষ তাকে ইয়র্কশায়ারের হ্যারোগেটের,
একটি হোটেলে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। তাই তুমি যদি যতই ফেলুদা, ব্যোমকেশ পড়ো না কেন ডিটেকটিভ গল্প কিংবা উপন্যাস পড়তে ভালোবাসো অগাথা ক্রিস্টি না পড়লে
তোমার এই জন্ম সার্থক হবে না।
