David szalay flesh এমন একটা উপন্যাস যার মধ্যে আছে শূন্য থেকে ১০০ তে উঠে আবার শূন্যে মিশে যাওয়া একটা মানুষের গল্প
দেখো এই বইতে যেমন ভালোবাসা ও যৌনতার পাশাপাশি ব্যর্থতা ও আছে। তবে এই বইটাকে মোটিভেশনাল কোন বই বললে অন্যায় হবে।
তাই আমি তো বলব এই বইটাকে অন্য আর পাঁচটা সাধারণ উপন্যাসের মতোই দেখতে।
H1. David szalay flesh নিয়ে আমার প্রাথমিক কিছু কথা?
কানাডিয়ান হাঙ্গেরিয়ান উপন্যাসিক David salai এর এটা ষষ্ঠ উপন্যাস। একজন হাঙ্গেরির ব্যক্তির দরিদ্র জীবন থেকে
সাফল্যের শিখরে ওঠার গল্প কেই এখানে তুলে ধরেছেন তিনি। এবার তোমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হতে পারে লেখক হাঙ্গেরিয়ান বলেই কি
একজন হাঙ্গেরিয়ান ব্যক্তির জীবন নিয়ে এই উপন্যাস লিখেছেন? এই বিষয় টা তদন্ত সাপেক্ষ। তবে এই উপন্যাস পড়ে অনেকই হয়ত নিজের জীবন এর সাথে ইস্তভান(এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র) এর লাইফ এর মিল খুজে পাবে।
তার জীবনের ওঠাপড়া যেনো আমাদের মতো আরো পাঁচটা মানুষ এর জীবনের সাথে মিলে যায়।
এই উপন্যাসটিকে যেটা স্বতন্ত্র করে তোলে সেটা হল সময় বা স্থানের উল্লেখ ছাড়াই এর আবহ তৈরির পদ্ধতি। তোমার মনে হয় আমরা যেন নাম হীন দেশের একটা নাম হীন শহরে বাস করছি।
সেই শহরে ফ্ল্যাট, সুপার মার্কেট, স্কুলের উপস্থিতি ছাড়া আমরা মানব ইতিহাসের কোন পর্যায়ে আছি তা তোমরা বুঝতে পারবে না।
H2 ইস্তভান ও david szalay flesh এর কাহিনী?
হাঙ্গেরির ছোট একটা হাউসিং এরমধ্যে থাকে ইস্তভান। সে খুব লাজুক আর আগোছালো টাইপের। তার জীবনের অনেক ছোটখাটো বাকের মধ্যে দিয়ে এই উপন্যাসের কাহিনী এগিয়েছে।
যেমন আমরা দেখতে পাই ইস্তভান যখন ১৫ বছরের একটা যুবক তখন সে তার বয়সের ডবল এরও বেশি ৪২ বছর বয়সী এক মহিলার সাথে
যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এরপরে সেই মহিলার স্বামীর সাথে ইস্তভান ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে, এবং সেই মহিলার স্বামীর মৃত্যু হয়।
https://thebookscope.com/?p=1285
যার জন্য ইস্টভান কে দায়ী করা হয়। বয়স কম হওয়ার জন্য তাকে জেলে না পাঠিয়ে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয় এবং সেই সংশোধনাগার থেকে বেরিয়ে,
সে ইরাক যুদ্ধের সৈনিক হিসেবে নিযুক্ত হয় এবং যুদ্ধে চলে যায়। সংশোধনাগারে থাকা থেকে সৈনিক হিসেবে যুদ্ধে যাওয়া জীবনের অদ্ভুত অভিজ্ঞতা থেকেই
ইস্তভাণ নিজেকে যেন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কি করে টিকে থাকতে হয় সেটা সে শিখে যায়। এরপরে আমরা দেখতে পাই যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে সে লন্ডনের,
একটা ধনী পরিবারে গাড়ির চালক হয়ে ওঠে এবং আস্তে আস্তে সে সেই পরিবারের একটা অংশে পরিণত হয়। সেই পরিবারের লাক্সারি জীবন, দামি রেস্তোরায় খাওয়া,
ব্যক্তিগত বিমানে করে ঘুরে বেড়ানো দামি লাক্সারি জামা কাপড় পরা এত সবকিছু তার জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।
এরপরে সেই ব্রিটিশ ধনকুবের এর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া তে জড়িয়ে পড়ে ইস্তভান । এরপরে তার স্বামী মারা গেলে, সেই বিধবা কে বিয়ে করে ইস্তভান।
https://en.wikipedia.org/wiki/Flesh_(Szalay_novel)
যদিও সেই মহিলার সৎ ছেলে তার নতুন বাবাকে কোনো দিন মেনে নিতে পারে নি,
H3 David szalay flesh ও নায়ক এর চরিত্র?
আমরা দেখতে পাই ধনী হওয়ার পরেও ইস্তভান ও তার অমার্জিত থেকে গেছে। একমাত্র প্রাপ্ত বয়স্ক এসেও সে অন্য দের মেলামেশা করতে অক্ষম।
একমাত্র শারীরিক সম্পর্কই এমন একটা মাধ্যম যখন সে প্রাপ্ত বয়স্ক দের সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। তার মধ্যে হিংসার জন্য বিবৃতির তাগিদ থেকে গেছে,
এবং সে নিজেকে তার জীবনের ঘটনা গুলোর জন্য নিজেকে নিষ্ক্রিয় অংশগ্রহন কারী মনে করে। সে প্রথমে তার প্রবৃত্তির বসে কাজ করে,
এবং পরে তার কাজ নিয়ে চিন্তা করে , তার শরীর এমন কিছু জানে যা তার মন জানে না, আবার তার চারিদিকের লোক তাকে নিয়ে এমন কিছু সেটা সে নিজে জানে না।
এছাড়াও আমরা গোটা উপন্যাস জুরে ইস্তভানের মধ্যে ভেবে চিন্তে কথায় না বলে তার প্রবৃত্তির মধ্যে কথা বলার উদাহরন বেশি পাই।
সে এমন এক মানুষ যে নিজে থেকে কথা শুরু করার পরিবর্তে অন্য দের কথার উত্তর দিতে বেশি পছন্দ করে সে “হ্যা”, “আমি জানিনা ” এর মত শব্দ বেশি ব্যাবহার করে।
এই উপন্যাস এর আরেক যায়গায় সে শুধু “okay” অর্থাৎ “ঠিক আছে ” বলেই পুরো কথোপকথন চালিয়ে যায়। ব্যাপার টা কতোটা অদ্ভুত ভাবো তোমরা।
যদিও পরে উপন্যাস যত শেষের দিকে এগিয়েছে তত আমরা দেখি ইস্তভানের মধ্যে সহানুভূতি গড়ে উঠতে থাকে, যা তাকে আরো দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
H4.David szalay flesh নিয়ে আমার শেষ কিছু কথা ? আমার মতে লেখক তার চরিত্র ইস্তভান কে সার্বজনীন অস্তিত্ববাদী ও পরিস্থিতির মধ্যে বসাতে চেয়েছেন।
এই বইতে আমরা জানতে পারি হাঙ্গেরির স্বতন্ত্র খাবার langos সম্বন্ধে। যে খাবার আমরা খেতে দেখি ইস্তভান ও তার সঙ্গী কে, তারা যখন বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল।
সব থেকে বড় কথা হলো এই উপন্যাসের শূণ্য সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস , আমাদের কথ্য ভাসার সংক্ষিপ্ত রূপের মাধ্যমে নিজের অস্তিত্ব আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
উপন্যাস টির সার্বজনীনতা অর্জনের সবথেকে সাহসী দিক টি হল এটি একদম আমার তোমার মত একটা সাধারন মানুষের জীবন নিয়ে লেখা।
যিনি কোনভাবেই একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি নন এবং বুর্জোয়া সাফল্যের অধিকাংশ মানদন্ডে ব্যর্থ। একটি চমকপ্রদ ও দুঃসাহসিক কোনোটিই নয় , বরং এই উপন্যাসের
শেষের দিকে আর কিছু ঘটনা প্রবাহ ইস্তভান এর জীবনকে বিয়োগান্ত করে তোলে।
একটি কৌতূহলদ্দীপক উপাখ্যান তার জীবনের সেই অংশটি কে ঘিরে রাখে যা দূসাহসিক হতে পারতো, আমরা দেখি কুয়েতে ইস্তভানের সামরিক সেবা তাকে দিয়েছিল,
পোস্ট ট্রমাটিক ট্রেস ডিস অর্ডার এবং যুদ্ধ বিষয়ে কৌতুহলই কিছু মানুষের মনোযোগ।, আমরা দেখি ইস্তভান একটি চামড়ার সোফায় বসে, একটা নরম পানীয় রেড বুলের ক্যান কে,
ছাইদানী হিসেবে ব্যবহার করে কিন্তু এখানে, কোথাও তার ধূমপান বা সিগারেট খাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি।। আমরা দেখতে পাই কামোদ্দীপক যৌন পরিস্থিতি ও কার্যকলাপ
ইস্তভানের জীবন কে গেঁথে রেখেছে। জীবনে প্রথমবার তার বয়সের দ্বিগুনেরও বেশি একজন ৪৫ বছর মহিলার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা থেকে ধনী মহিলার ,
গাড়ির চালক হয়ে তার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে তাকে বিয়ে করে একটা ধনী জীবন পাওয়া পর্যন্ত। তার শেষ সম্পর্কটি তাকে একটা সুন্দর জীবন যতটা নিষ্ঠুর ভাবে দিয়েছিল,
সেই সুন্দর জীবন খুব নিষ্ঠুর ভাবে তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
এই দীর্ঘ উজ্জ্বল স্বপ্ন থেকে আমাদের ইস্তভান সেই আগের জায়গাতেই ফিরে আসে, যেখানে সে তার ভাগ্যের কারণে পরিণত হয়েছে একটা নগ্ন দ্বিখণ্ডিত পশুতে।

