বক্রক্তি ছড়া লেখার নিয়ম জানো? জানতে গেলে আগে এই কথাটাকে দুই ভাগে ভাগ করতে হবে। বক্র ও উক্তি , বক্র বলতে,
আমরা বুঝি মূলত বাঁকা উক্তি বলতে বোঝায় বাকা, অর্থাৎ “বাঁকা কথা”। সোজাসুজি ভাবে বললে কোনো ছড়ায় লেখক
যখন কোনো কথা নির্দিষ্টি অর্থে বলেন কিন্তু শ্রোতা সেই অর্থটি গ্রহণ না করে ইচ্ছাকৃত ভাবে বাকা অর্থাৎ অন্য কোনো অর্থ,
মানে করে বলে তাকেই “বক্রক্তি” বলে। যেটা মূলত কথার পিঠে কথা বিয়ে বুদ্ধি বৃত্তিক রসিকতা বা ব্যাঙ্গ করার একটা কৌশল।
H.বক্রক্তি ছড়া লেখার নিয়ম জানো?
ছড়ায় কম করে দুটি চরিত্র সংলাপের আবহ তৈরি করো,(বক্তা ও শ্রোতা)।
°বক্তা সংলাপে এমন একটি শব্দ ব্যবহার কর যার একাধিক অর্থ হতে পারে।
°শ্রোতা ও উওরদাতার সংলাপে সেই শব্দটির একটির ভিন্ন বা বাকা অর্থ ধরে নিয়ে উওর
•লেখার তোমার মাথায় রাখতে হবে এইরকম বাঁকা অর্থের কারণে যেন নাটকীয় মোড় বা কৌতুক সৃষ্টি হয়।
যেমন তোমাকে একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝাই
“বিয়ে করে তোমায় বুঝি করেছে সে পর”
-পর কেন ভাই সে তো আমার আপন ঘরের বর ।
এখানে প্রথম লাইনে বক্তা বলছে বিয়ে করে কি তোমায় সে পর করে দিয়েছে, পর মানে পরবাসী, অর্থাৎ অন্য কেউ অন্যদিকে,
বর মানে স্বামী অর্থাৎ নিজের ঘরের লোক। তাই যখন বক্তা জিজ্ঞেস করল বিয়ে করে তোমায় বুঝি সে পর করে দিয়েছে তখন সে,
গর্বের সাথে বলল সে আমার আপন ঘরের বর মানে সে আমার নিজের লোক আরও একটা উদাহরণ দিয়ে তোমাদের বোঝাই
“বিয়ে করে তোমার জীবন করেছে কি ছাই?
—ছাই কেন ভাই! তার ছোঁয়াতে সোনার জীবন পাই”
এখানে ‘ছাই’ শব্দটিকে দ্ব্যর্থবোধকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—একদিকে ‘ছাই-ভস্ম’ বা মূল্যহীন কিছু, অন্যদিকে ‘সোনার জীবন’ বা অমূল্য কিছুর বিপরীত রূপ।
আশা করি তোমাদের সুন্দর ভাবে বোঝাতে পারলাম “বক্রক্তি ” ছড়া কি ভাবে লিখতে হয়। যদি আরো বেশি কিছু জানতে চাও বা শিখতে চাও তাহলে
দুটো বই পড়ে দেখতে পারো “ছড়া লিখে অর্জন” ও “ছড়ামর্শ”। দুটি বই লিখেছেন জনি হোসেন কাব্য।

