Ruskin bond’s life’s magic moments আমাদের প্রতিদিনের জীবনের ফেলে আসা ছোট ছোট মুহূর্ত গুলোকে, নিয়ে লেখা,যেমন বৃষ্টির দিনের মাটির ভেজা গন্ধ,
পুরনো জামাকাপড় এর গন্ধও এই সব কিছুই কোথায় যেনো এক টা সুতো দিয়ে পৃথিবী কে বেঁধে রাখে।

এই বই শেষ করার জন্য তোমার মধ্যে আর পাঁচটা বই এর মতো তাড়াতাড়ি পড়ে শেষ করার চেষ্টা থাকবে না। এই বই এর
কথা তোমার মধ্যে কোনো প্রশ্ন করবে না, এই বই এর লাইন গুলো শুধু তোমার মধ্যে থেকে যাবে, সে গুলো তোমাকে কল্পনা
করতে বাধ্য করবে । রাস্কিন বন্ড এর “Life in the magic moments”এমন একটা বই যা ধীরে ধীরে তোমার প্রিয় কফি টা তে,
চুমুক দিয়ে পড়ার মতো বই। আর বই এর একদম শেষে যেটা উপস্থিত থাকে সেটা হলো একটা সুন্দর স্মৃতি, একটু তিক্ততা আর দীর্ঘ স্থায়ী মধুরতা।
তুমি কল্পনা করো মুসৌরি সংলগ্ন একটা ক্যান্টনমেন্ট শহর ল্যান্ডরে বসে একটা মানুষ হাতে পেন নিয়ে পাহাড়ের দিকে চেয়ে আছে,
আর নতুন শব্দ তৈরি করছে, আর উপলব্ধিতে বিভোর হয়ে বাক্য তৈরি করার চেষ্টা করছে। লেখক বলছেন আমাকে শুরু করতে হবে ,

“সেই ছোট্ট ফুলটি দিয়ে যে ফুলটা আমার জানালার ধারে পরিত্যক্ত একটা টবের উপর ফুটে ছিল, যেখানে আমি কোনো দিনই
আরও পাঁচ জনের মত স্বাভাবিক ভাবে ফুল ফোটাতে চাইনি, শুধু ফুলের টবটা মাটি ভরা অবস্থাতে পাশে সরিয়ে রেখে ছিলাম,
কোনোদিন ভাবিনি সেখান থেকে ফুল ফুটবে, বন্ড এর কথায় হয়ত এই ফুল আমাদের শিক্ষা দেয়, আপনি যখন আশা ছেড়ে দেন,
যখন আপনার জীবনে অনেক বাঁধা থাকে হঠাৎ করেই তখন আপনার জীবনে অনেক ভালো কিছু হতে পারে, এই কথা
ব্রিটিশ কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ থেকে শুরু করে অনেক বিখ্যাত কবি যুগ যুগ ধরে বলে আসছেন।
এরপরে নিজের অবস্থান বোঝাতে গিয়ে Ruskin বলেছেন sunroom এর ভিতরে , যেখানে জেরোনিয়াম ফুল ফুটে রয়েছে,
সেখানে বসে একটা তাজা পাতায় পেন দিয়ে কথা গুলো যে কি আনন্দের সাথে লিখছি। তুমি যদি
Ruskin bond এর ফ্যান হয়ে তুমি তার লেখা এই দৃশ্যটা কল্পনা করে দেখো একজন বৃদ্ধ লেখক তার পাতার ফাঁক দিয়ে আসা সূর্যের আলো,
আর বই এর শব্দ গুলো যেনো বন্ধুত্বের এক নিদর্শন হয়ে বেরিয়ে আসছে। যেমন কবি ওয়ালডেনে থারোর ছিল
তার পুকুর, উলফের ছিল নিজের একটা ঘর, আর ruskin bond এর ছিল জেরানিয়াম ফুলে ভরা একটা sunroom।
এছাড়াও বন্ড এখানে এমিলি ব্রুন্ট এর কথা বলেছেন যে ছিল এক পাদ্রীর তিন মেয়ের মধ্যে একজন। এখানে আমরা পরিচিত হই
দূরে এক পাদ্রির বাড়ি, ও একটা গির্জা কে দেখি। বাড়িটির নাম ছিল “উদারিং হাইটস”। এই বাড়িটির নামেই লেখা হয়েছিল সেই বিখ্যাত উপন্যাস।
যেটা লিখেছিল এমিলি ব্রুন্ট, যার আত্মা এখনো নির্জন প্রান্তের ওপারে গান গেয়ে চলেছে। তার কাছে এমিলি ব্রুন্ট কখনো মারা যায়নি,
এটা ঠিক যে যেসব লেখক লেখিকার অসময়ে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন তাদের লেখা তাদের শব্দ তাদের বাক্য এখনো আমাদের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়।
Bond বলেন আমার সারা ঘর জুড়ে বই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, ঘরেরে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে বই নেই, বছরের পর,
বছর ধরে এই বই গুলো আসছে, ভবিষ্যতে আরও আসবে, এগুলোই জীবনের হাস্যকর দিকগুলো তুলে ধরে এবং এটাই আমাকে আনন্দ দেয়।
যারা বইয়ের মধ্যে থেকে বড় হয়েছে তারা এই বিশৃঙ্খলা চিনতে পারে, দার্শনিকরা আমাদের বলতে পারেন কিভাবে বাঁচতে হয় এবং
সাধুরা ঐশ্বরিকতার পথ দেখাতে পারেন, কিন্তু হাসি আমাদের হতাশা থেকে বাঁচায় মনকে আনন্দে রাখে।
Ruskin লেখক গিডের কথা স্মরণ করে বলেন তার এক বন্ধু তাকে আদ্রে গিডের “ফ্রুটস অফ দা আর্থ” বইটা দিয়েছিল। গিড এর আর এক বিখ্যাত ,
উপন্যাস” the emoralist” পড়ে ruskin bond “the sensualist” নামের এক উপন্যাস লিখে বড় বিপদে পড়েছিল।
Bond এর কথায় সব লেখক ম্যারাথনে জ্বালানো হস্তান্তর করা মশালের মত অনুপ্রেরণা রেখে যায় না তারা এমন আগুনের ফুলিঙ্গ রেখে যায়,
যে আগুনের ফুলিঙ্গ যেখানে পড়ে সেখানেই জ্বলে ওঠে। এরপরে লেখক পড়ার ফলস্বরূপ ফিরে যান মে মাসের এক দম বন্ধ করা এক বিকেলে যেখানে তিনি ,
পাহাড়ি পথ ধরে ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছিল, আর অতিরিক্ত গরমে মনে হচ্ছিল যেন তিনি গলে যাচ্ছেন, লেখক এর সেই
খামার ক্লান্তি নিয়ে তোমার মধ্যে উদ্বেগ জাগবে,
এরপরে Ruskin বলছেন সেই বসন্ত এখনো আছে ক্লান্ত পথিকদের তেস্টা মেটাচ্ছে, আমরা সেই নদীর জলকেই বিষাক্ত করে ফেলছি
আর দোকান থেকে কিনে কোম্পানির স্টিকার লাগানো পরিশোধিত পানীয় জল খাচ্ছি। লেখকের এই কথা আমাদের মধ্যে সাংঘাতিক
ভাবে অস্বস্তি থেকে একটা অপরাধবোধ জাগিয়ে তোলে। রাস্কিন বন্ড তার স্বভাবসুলভ সংক্ষিপ্তততায় প্রকৃতির সাথে আমাদের বিচ্ছিন্ন তার পাহাড়ের দিকে যান।
Bond বলেন একটা গাছ লাগানো মানে ভবিষ্যতের উপর বিশ্বাস রেখে কিছু রোপন করা মানুষ হিসেবে জন্মে নিজেদের অস্তিত্বকে সার্থক করা,
মানুষের মত কেচোদের ও একটা গোপনীয়তার প্রয়োজন হয়। তারা কিছু করছে না কিন্তু তাদেরও বিরতি দরকার। তিনি আমাদের ভাবতে বাধ্য করেন,
সম্মানও একাকীত্ব শুধুমাত্র আমাদের না সেটা মাটিতে থাকা সেই ছোট ছোট প্রাণীগুলোর ও সমানভাবে প্রাপ্য। এরপরে লেখক বৃষ্টির কথা উল্লেখ করে বলেছেন
আমাদের প্রিয় শব্দ গুলোর মধ্যে একটা হল”বাড়ির টিনে ঝির ঝির টুপ টুপ বৃষ্টির শব্দ, একটানা বৃষ্টি পড়লে যে শব্দ একটানা ড্রামের মতো বেজে ওঠে “
চোখ বন্ধ করে এই শব্দটাকে অনুভব করলে বাড়ির পুরনো ছাদের দীর্ঘনিঃশ্বাস মনে হয়। বৃষ্টির শব্দ হলো স্মৃতির সঙ্গীতের সেই সুর
যা শৈশব ও বার্ধক্যকে বিদায় জানাতে সাহায্য করে। বিখ্যাত মার্কিন ব্রিটিশ কবি টি এস এলিয়ট “প্রু ফ্রক এ” কবি উলফ
“the waves” এ আমাদের লেখক ruskin bond শোনেন এক টিনের চালে অপেক্ষারত পাহাড়ের নিস্তব্ধতায়। Bond বলেন আমি পুরনো বন্ধুদের সাথে নতুন বন্ধুদেরও স্বপ্ন দেখি।
আমি এমন এক দুনিয়ার স্বপ্ন দেখি যেখানে ফুল ফোটে ,পাখিরা গান গায়, কৃষক মাঠে চাষ করে, মৌমাছিরা ফুলের মধু সংগ্রহ করে,
আমি সেইসব জিনিসেরই স্বপ্ন দেখি যেগুলো হয়তো কোনদিন ঘটেনি কিন্তু হয়তো ঘটবে । এত কিছু কথার মধ্যেই উনি এক উভয় সংকটের
কথা বলেছেন যেখানে বন্ড বলছেন “আমি কি আধ্যাত্বিক ঝোঁক অনুসরণ করে , সকালের ব্রেকফাস্ট কে না বলে ধ্যান চালিয়ে যাব,
নাকি সকালের ব্রেকফাস্ট কে আলিঙ্গন করব। এরপরে লেখক জগতের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন”আজকের দুনিয়ায় সততার দাম নেই, ক্ষমতাই প্রথম,
তার কথায়”সেই আদি পথিকৃৎ আর বন্দুক বাজরা ওজন বাড়ার আগেই মারা যেত” তার এই রসিকতা কিছুটা স্নেহপূর্ণ, তীক্ষ্ণ, দুষ্টু।
তার লেখক হয়ে ওঠার প্রসঙ্গে ruskin bond বলেছেন “মূলত আমরা নিজেদের জন্য লিখি, একজন লেখক নিজেই তার সেরা পাঠক,
তার সৃজন শীল প্রচেষ্টা থেকে প্রাপ্ত সন্তুষ্টি তে তাকে খুশি থাকতে হবে। লেখা মানে নিজের সঙ্গে কথোপকথন করা, আর সেই কথোপকথন যদি
বড় বড় সাহিত্য সব সময় সৃষ্টি হয়েছে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে। Ruskin আমাদের বলেন সাহিত্যের এই টিকে থাকাই রহস্যের এক দিক।
যার কোনো শুরু নেই, শেষ নেই। এই সব গুলোই লেখক কে নিজের সত্তা কে ছাড়িয়ে অনন্ত কালের শেষ প্রান্তে নিয়ে যায়।
H3
Ruskin bond’s life’s magic moments এই বই তুমি কেন পড়বে?
শেষমেশ এত কিছু বলার কারন কিন্তু জন্য ভাব মোচন নয়, এটা একটা আত্মা, আর নীরবতার ঢাল মাত্র।
দেখো এটা আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আর এই বই নিয়ে প্রায় সব কথাই আমি উপরের লাইনগুলোতে বলে দিয়েছি তবে এই বইটার মাধ্যমে
